'যখন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হই, তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। গতানুগতিক কিছু নয়; এমন কিছু করতে চেয়েছি যাতে শুধু নিজের নয়, নিজের দেশকেও রিপ্রেজেন্ট করতে পারি। মাইক্রোসফটে সেই সুযোগ পেয়ে মনে হয়েছে- স্বপ্নটা পূরণ হলো।' এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেকজায়ান্ট মাইক্রোসফটে কর্মরত বাংলাদেশের তাহমিদ আলম স্মরণ। বর্তমানে তাহমিদ সেখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

শুরুটা হয়েছিল কীভাবে- জানালেন, 'প্রথমে আমার মাইক্রোসফট রিক্রুটারের সঙ্গে লিঙ্কডইনের মাধ্যমে প্রাথমিক কথা হয়। তাঁরা আমাকে অ্যাপ্লাই করতে বলেন। অ্যাপ্লাই করার পর আমার কাছে একটা কোডিং টেস্টের লিঙ্ক আসে। কোডিং টেস্ট কমপ্লিট করার পর আমাকে জানানো হয়- আমার টানা ৪ ঘণ্টার চার রাউন্ডের একটি ভার্চুয়াল অনলাইন ইন্টারভিউ হবে। যেহেতু এটি এন্ট্রি লেভেলের জব ছিল, তাই প্রতিটি রাউন্ডেই কোডিং ফোকাসড ছিল। তবে সবার ক্ষেত্রেই যে এ রকমটি হবে তা নয়। সবকিছু সফলভাবে শেষ করার পর আমার প্রতীক্ষিত ক্ষণটি আসে। আমাকে মাইক্রোসফটের রিক্রুটার জানান, তাঁরা আমাকে অফিসিয়ালি অফার লেটার দেবেন। এর ঠিক সাত দিন পর তাঁরা আমাকে অফার লেটার পাঠান এবং আমি তাতে সাইন করি। এরপর তাঁরা আমার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাজগুলো করে ফেলেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আমার সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস। আমি গত মার্চে জয়েন করি। কাজে যোগ দেওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চললো। দারুণ সব অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারে যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু জানছি, শিখছি। কাজের পরিবেশটাও চমৎকার।'

বর্তমানে তাহমিদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে মাইক্রোসফটের হেডকোয়ার্টারে কাজ করছেন। তাহমিদ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুুল থেকে এসএসসি, এইচএসসি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ইন কম্পিউটার সায়েন্স এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাহমিদের বাবা জাহাঙ্গীর আলম সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, মা কানিজ শাহিনা গৃহিণী। তাঁর ছোট ভাই তামজিদ আলম সমিকও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স করছেন।

যাঁরা স্বপ্ন দেখছেন মাইক্রোসফট, গুগল কিংবা বিশ্বখ্যাত কোনো জায়ান্ট কোম্পানিতে কাজ করার, তাঁরা কীভাবে শুরু করবেন তাঁদের পরামর্শ দিয়ে তাহমিদ বলেন, প্রথমেই ভয়কে জয় করতে হবে, বাড়াতে হবে আত্মবিশ্বাস। যাঁরা এখনও পড়াশোনা করছেন, তাঁদের বলব- কোডিং, অলগারিদম ডাটা স্ট্রাকচার নলেজ বাড়াতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনাও ভালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে। ভালো প্র্যাকটিস, প্রবলেম সলভিং দক্ষতা, একাডেমিক ভালো নলেজ থাকলে এ ধরনের টেকজায়ান্টে কাজ করা যে কারও পক্ষে সম্ভব। হতাশ কিংবা আশা ছেড়ে দিলে হবে না, আমি পারবই- এ ধরনের মনোভাব থাকলে সবকিছুই সম্ভব।

তিনি বলেন, 'চাকরির জন্য স্বপ্নের একটি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। সিএসইতে যাঁরা পড়ছেন, তাঁদের সবারই স্বপ্ন থাকে এমন কোনো সুযোগ পাওয়ার। আমারও তেমন ছিল। যখন মাস্টার্স করছিলাম তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন কোনো জায়গায় কাজ করব, যে প্রতিষ্ঠানকে সারাবিশ্ব চিনবে। আমার অনুভূতি আসলে বলে বোঝানো যাবে না। সব মিলিয়ে অনেক ভালো লাগছে।' তাহমিদ তাঁর এই স্বপ্ন পূরণের পুরো কৃতিত্ব পরিবার এবং শিক্ষকদের দিতে চান।

তাহমিদ বলেন, 'মা-বাবার প্রতি আমি সব সময় কৃতজ্ঞ। তাঁদের মাইক্রোসফটে সুযোগ পাওয়ার সংবাদ দিতে পেরে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা আমার শিক্ষকদের প্রতিও। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। সারাবিশ্বে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অর্জন বাংলাদেশকে নতুনভাবে চেনাবে। সবাই দেখবে, মেধা-মননে দেশপ্রেমে আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। এ প্রত্যাশা নিয়েই নিজের মেধার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে সবাই বলতে পারেন- আমরা বাংলাদেশিরা কাজের ক্ষেত্রে সবার সেরা।