মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার কামতা-গোলড়া সড়কে মঙ্গলবার রাতে ককটেল বিস্ম্ফোরণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক। ওই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখনকে। অথচ ওই ঘটনার ৫-৬ দিন আগে থেকেই তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সামনে রেখে আতঙ্ক ছড়াতে এ মামলা হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে।

ওই মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে বালিয়াটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মাসুদুর রহমান খান স্বপন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার সরকার বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ সামনে রেখে নেতাকর্মীকে হয়রানি করার জন্য মামলা করা হয়েছে। গোলড়া-কামতা মোড়ে ককটেল বিস্টেম্ফারণের ঘটনাকে 'নাটক' বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার রাতে কামতা মোড়ে ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটায়। জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে এ নাশকতা ঘটানো হয়। তাঁর দাবি, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, 'ফুসফুসে পানি জমার কারণে আমি ১০ দিন আগে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হই। যে দিনের ঘটনায় নাশকতার মামলা হয়েছে, সেদিন আমার বুকে অস্ত্রোপচার করা হয়। এখনও আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাহলে কীভাবে নাশকতা করলাম?'

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী রাশেদুল প্রধানের মামলায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির সাত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, তাঁদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার তৌকির আহমেদ, জাহিদ, শাহাদাত ওরফে বাবু, কায়েতপাড়া পূর্বপাড়ার আজগর আলী, তারাব বিশ্বরোডের খালপাড় এলাকার জুয়েল মাহমুদ, যাত্রামুড়ার ইমরান খান ও মর্তুজাবাদের মোমেন মিয়া।

মামলার বাদী রাশেদুল প্রধানের দাবি, মোটরসাইকেলে করে রোববার রাতে রূপসী থেকে কাঞ্চন যাওয়ার পথে গাউছিয়া এলাকায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধর করে। তবে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বিষয়টিকে 'একেবারে সাজানো' বলে উল্লেখ করেন।

মুন্সীগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় পৃথক অভিযানে বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার বিশেষ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গজারিয়ার পুরান বাউশিয়া থেকে জসিম সরকার ও শাহ আলম, করিম খাঁ গ্রাম থেকে মাসুম ও মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। লৌহজংয়ের বেজগাঁও থেকে গ্রেপ্তার হন আল আমিন বেগ ও লাল মিয়া সরদার। এ ছাড়া গাঁওদিয়া থেকে ইলিয়াস মিয়া, নওপাড়া থেকে ফারুক হোসেন ও বৌলতলী থেকে সাত্তার দপ্তরিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সিরাজদীখানের মধ্যপাড়া থেকে আজিম আল রাজী, বালুচর থেকে ফারুক হোসেন ও নিমতলার আমান মোল্লা গ্রেপ্তার হয়েছেন। টঙ্গীবাড়ি থেকে আব্দুল আলিম, রাজন মুন্সী ও লতিফ দপ্তরি এবং সদর উপজেলার বিনোদপুর থেকে মো. রকিব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।