বছরে ১৪শ' কোটি টাকার রাজস্ব হাতছাড়া হবে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

রাশেদ মেহেদী

আন্তর্জাতিক কলরেটের সর্বনিম্ন মূল্য পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির জন্য পৃথক সিলিং নির্ধারণ না করায় বছরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার। এর আগে আন্তর্জাতিক কলরেট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রতিবারই সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ এবং রাজস্ব ভাগাভাগির জন্য পৃথক কিছু শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু এবারই প্রথম সর্বোচ্চ কলরেট নির্ধারণ করা হয়নি এবং কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সর্বনিম্ন মূল্য দশমিক শূন্য শূন্য ৬ সেন্ট বা ৫১ পয়সা মিনিট হারে অনুযায়ী রাজস্ব ভাগাভাগির নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্নেষকরা বলছেন, এর ফলে আইজিডব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) কোম্পানিগুলো যে মূল্যেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইনকামিং কল নিয়ে আসুক না কেন, তারা ৫১ পয়সা মিনিট হারেই সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারের বিবেচনায় বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তে আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক মুনাফার সুযোগ পাবে এবং সরকার রাজস্ব হারাবে। কারণ বর্তমানে অ্যাপভিত্তিক ওটিটি কল (হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার ইত্যাদি) ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। এ সময়ে বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকরা কোনো সুবিধা পাবেন না। বরং কিছু আইজিডব্লিউ কোম্পানিই অধিক মুনাফার সুযোগ পাবে এবং সরকার নিশ্চিতভাবেই রাজস্ব হারাবে।
এদিকে বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। ওই চিঠিতে বিস্তারিত হিসাব দেখিয়ে বলা হয়েছে, বিটিআরসির সিদ্ধান্তের কারণে যদি ১০ শতাংশ কল বৈধ পথে বাড়ে, তারপরও সংস্থাটি বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। এই কল হার ২০ শতাংশও যদি বাড়ে তাহলেও সরকার ৩০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে প্রতি বছর। অ্যামটবের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিটিআরসি এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপারেটরদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি।
তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক সমকালকে বলেন, বর্তমান বাজারের অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের আগে মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব হারানোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অ্যামটব কীভাবে হিসাব করেছে সেটা তিনি জানেন না। তবে বৈধ পথে আর্ন্তজাতিক ইনকামিং কল নিয়ে আসাকে উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির নির্দেশনা :গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসির উপপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ) সাবিনা ইসলামের স্বাক্ষরে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কল টার্মিনেশন রেট হবে ৫১ পয়সা প্রতি মিনিট, যা আগে ছিল প্রায় দেড় টাকা। এতে আরও বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল কল টার্মিনেশন রেট পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি এখন থেকে সর্বনিম্ন হারের (ফ্লোর রেট) ভিত্তিতেই রাজস্ব ভাগাভাগি হবে। জানা গেছে, নির্দেশনায় সর্বোচ্চ কলরেট নির্ধারণ করা হয়নি এবং রাজস্ব ভাগাভাগিতে অন্য কোনো ধরনের শর্তও দেওয়া হয়নি।
এর আগে সর্বশেষ বিটিআরসি আন্তর্জাতিক কলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছিল ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। পুনর্নির্ধারণের নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছিলেন বিটিআরসির পরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ) লে. কর্নেল মোহম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। ওই নির্দেশনায় সর্বনিম্ন কলরেট শূন্য দশমিক ১৭৫ সেন্ট বা প্রায় দেড় টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং সর্বোচ্চ কল টার্মিনেশন রেট নির্ধারণ করা হয় শূন্য দশমিক ২৫০ সেন্ট বা প্রায় ২ টাকা ৯০ পয়সা। এ নির্দেশনাতে সর্বনিম্ন মূল্য অনুযায়ী রাজস্ব ভাগাভাগির কথা বলা হলেও শর্ত দিয়ে বলা হয়, 'মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে বিটিসিএলসহ সব আইজিডব্লিউ অপারেটর বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ কলরেটে কল টার্মিনেশন করবে। এর ব্যত্যয় হলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা কম আনা হয়েছে মর্মে গণ্য করা হবে। প্রয়োজনে বিটিআরসি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করবে।
অ্যামটটের চিঠি :বিটিআরসির নির্দেশনা জারির পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব থেকে চিঠি দেওয়া হয় বিটিআরসিকে। সংশ্নিষ্ট সূত্রে পাওয়া ওই চিঠিতে দেখা যায়, বিটিআরসির সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি রাজস্ব কমে যাওয়া এবং অপারেটরদের আয় কমে যাওয়ার পৃথক হিসাব দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, বিটিআরসি আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। যদিও মোবাইল অপারেটররা এ ক্ষেত্রে বাজারের অন্যতম প্রধান অংশীদার। বিটিআরসির এ সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন অপারেটরদের আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তেমনি এ খাত থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বড় অঙ্কে কমে যাবে।
চিঠিতে হিসাব দিয়ে বলা হয়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি মাসে ৮৮৮ মিলিয়ন বা ৮৮ কোটি ৮০ লাখ মিনিট ইনকামিং কল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে আসছে। এ হিসাবে আগের সর্বনিম্ন মূল্য দেড় টাকা হারে রাজস্ব ভাগাভাগির হিসাবে প্রতি মাসে বিটিআরসির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৯০ লাখ এবং এনবিআরের ভ্যাট ও কর বাবদ রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিটিআরসির পুনর্নির্ধারিত ৫১ পয়সা মিনিট হারে রাজস্ব ভাগাভাগি হলে যদি ১০ শতাংশ কলের পরিমাণও বাড়ে তাহলে এখন থেকে প্রতি মাসে বিটিআরসির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হবে ৪৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিটিআরসি প্রতি মাসে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা এবং এনবিআর প্রায় ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। প্রতি মাসে বিটিআরসি ও এনবিআরের মোট রাজস্ব হারানোর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে এখন থেকে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল থেকে বছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমবে ১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
হিসাবে বলা হয়, বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তের কারণে যদি ২০ শতাংশ হারেও ইনকামিং কল বৈধ পথে বাড়ে তাহলে বিটিআরসির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রতি মাসে ৩১ কোটি টাকা এবং এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় কম হবে ১০৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে বছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় কম হবে ১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।
হিসাবে আরও বলা হয়, বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বৈধ পথে ১০ শতাংশ কল বাড়লেও চারটি মোবাইল অপারেটরের প্রতি মাসে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৮ কোটি টাকা। যদি বৈধ পথে ২০ শতাংশ হারেও কল বাড়ে, তাহলেও অপারেটরদের প্রতি মাসে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২১০ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে অ্যামটব মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম ফরহাদ সমকালকে বলেন, কোনো এক ধরনের লাইসেন্সির জন্য তাদের মূল আয়ের বা কল রেটের ওপর রাজস্ব না নিয়ে সর্বনিম্ন রেটের ওপর রাজস্ব ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। মোবাইল অপারেটরসহ অন্য আরও যেসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের ক্ষেত্রেও কি সর্বনিম্ন মূল্য অনুযায়ী রাজস্ব ভাগাভাগি করা হবে? বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কি দেশে আগের মতো কমমূল্যে কল করার সুযোগ পাবেন? শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানের এই নতুন নির্দেশনার কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটরদের রাজস্ব আদায়ও কমে যাবে, ফলে তারা ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
বিশেষজ্ঞের বক্তব্য :এ ব্যাপারে টেলিযোগাযোগ খাতের একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রথমত এ নির্দেশনায় বিটিআরসি নিজের নীতিমালা নিজেই ভেঙেছে। কারণ, মোবাইল অপারেটরসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে কল রেটের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারিত থাকলেও বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী যে হারে গ্রাহকের কাছ থেকে কলের মূল্য নেওয়া হয়, সে হারেই রাজস্ব ভাগাভাগি হচ্ছে, সর্বনিম্ন হারে নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইজিডব্লিউ অপারেটরদের সর্বনিম্ন হারে রাজস্ব ভাগাভাগির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এটা বিটিআরসিরই নীতিমালার লঙ্ঘন।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে কত রেটে কল টার্মিনেট করা হচ্ছে, তা কখনোই প্রকাশ করা হয় না। যেমন মোবাইল অপারেটর গ্রাহকের কাছ থেকে একটি কলের বিল নেওয়ার পর সেটার হার উল্লেখ করে এবং সেটা গ্রাহককে দেখাতে হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনের ক্ষেত্রে টার্মিনেশন রেট কখনোই জানা যায় না, জানানোর ব্যবস্থাও করেনি বিটিআরসি। ফলে সর্বনিম্ন রেট ৫১ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও আইজিডব্লিউ অপারেটররা যে এক টাকা কিংবা তারও বেশি রেটে কল টার্মিনেট করবে না, তার নিশ্চয়তা কী? যদি বেশি রেটে কল টার্মিনেট করা হয়, তাহলে যে বাড়তি টাকা সেটার কোনো অংশ তো বিটিআরসি পাবে না, একই সঙ্গে এনবিআরও কর কিংবা ভ্যাট পাবে না। বিদেশ থেকে প্রবাসীরা যে রেটে কল করেন, সেটা দেশের কল টার্মিনেশন রেটের ওপর নির্ভর করে না। ফলে গ্রাহকরা আগেও কল টার্মিনেশন পুনর্নির্ধারণ থেকে কোনো সুবিধা পাননি, এখনও পাবেন না।
তৃতীয়ত, বর্তমানে অ্যাপভিত্তিক ওটিটি (ওভার দ্য টপ) কল যেমন হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার প্রভৃতির মাধ্যমে কলের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। প্রযুক্তি দুনিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার গতি-প্রকৃতি দেখে বলা যায়, ভবিষ্যতে ওটিটি কল আরও বাড়বে এবং সরাসরি চ্যানেলে কল ক্রমাগত কমবে। যে তথ্য বর্তমানে আছে, সে অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশ থেকে আসা কলের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় এক হাজার ২১৩ কোটি মিনিটের কল বিদেশ থেকে এসেছে, আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৯০ কোটি মিনিট। দেখা যাচ্ছে, এক অর্থবছরের ব্যবধানে কল কমেছে ৭৭৭ কোটি মিনিট। এভাবে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের পরিমাণ কমছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে হোয়াটস অ্যাপের বিশ্ববাজারে দৈনিক ভিডিও ও ভয়েস কলের পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) মিনিট। ফেসবুক মেসেঞ্জারের কলের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মিনিট, উইচ্যাটের এক বিলিয়ন মিনিট এবং ভাইবারের প্রায় ৯৮০ মিলিয়ন মিনিট। ফলে এই সময়ে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট কমিয়ে বৈধ পথে সরাসরি চ্যানেলে ইনকামিং কল বেড়ে যাওয়ার যে প্রত্যাশা বিটিআরসি করছে, তা অযৌক্তিক। এটা স্পষ্ট, বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখনও সরাসরি চ্যানেলে যে ভয়েস কলের বাজার আছে, সেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ই শুধু কমবে। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটর ও আইসিএক্স অপারেটররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ গ্রাহকদেরও কোনো লাভ হবে না।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বক্তব্য :বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্তে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কারণ, দিন দিন সরাসরি চ্যানেলে ভয়েস কল কমছে। সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্বও কমছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভয়েস কলের ব্যবসার সঙ্গে যারা আছে, তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট পুনর্নির্ধারণ করে কমানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ, আন্তর্জাতিক কলের বাজারে দেশের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেটা টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, নতুন সিদ্ধান্তের কারণে যদি বৈধ পথে কল আসার পরিমাণ বাড়ে, তাহলে হয়তো সরকারের রাজস্বও কিছুটা বাড়বে। তবে এ সিদ্ধান্তের কী প্রভাব পড়ে তার ওপর নজর রাখা হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বিষয় : রাজস্ব