মোশাররফ করিম। তারকা অভিনেতা ও মডেল। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম কলকাতার সিনেমা 'ডিকশনারি'। পশ্চিমবঙ্গের ব্রাত্য বসু পরিচালিত এই ছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-

আগামীকাল আপনার কলকাতার প্রথম ছবি 'ডিকশনারি' মুক্তি পাচ্ছে। এই ছবির সাফল্য নিয়ে কতটা আশাবাদী?

যে কাজে আত্মতৃপ্তি থাকে, তার সাফল্য নিয়ে আশা করা যেতেই পারে। 'ডিকশনারি' তেমনই একটি ছবি, যেখানে আনন্দ নিয়ে কাজ করেছি। সেটা দর্শকের মাঝে সংক্রমিত হবে- এটাই আমার বিশ্বাস।

কলকাতার এই ছবিটি এদেশের দর্শকের মনে দাগ কাটবে বলে মনে করেন কি?

ছবির গল্প এমন যে, মানচিত্র বদলে গেলেও দর্শকের মাঝে আলাদা কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আলাদা হলেও মানুষের আবেগ, অনুভূতির জায়গাটা একই থাকে। দেশ ভেদে তা বদলে যায়- এমন কখনও মনে হয়নি। 'ডিকশনারি' তাই শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন দেশের দর্শকের মনে ছাপ ফেলবে বলে আশা করা যায়।

ছবির গল্পে এমন কী আছে, যা নিয়ে এত আশাবাদী?

অতিরঞ্জিত কোনো ঘটনা নেই এর গল্পে। দর্শক যা দেখবেন, তার সঙ্গে যাপিত জীবনের অনেক সত্য অনুভব করতে পারবেন। গল্পটা এমন, মকরকান্তি চট্টোপাধ্যায় একজন খেটে খাওয়া মানুষ। তার স্বপ্ন সন্তানকে শিক্ষা-দীক্ষায় বড় করে তোলা। স্ত্রী আর সন্তানই তার পৃথিবী। তার জীবনে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, সেই সংগ্রাম যেন সন্তানকে করতে না হয়, তার জন্য দিন-রাত লড়াই করে যাচ্ছেন। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোই মকরকান্তির লক্ষ্য। কিন্তু লক্ষ্যের দিকে ছুটতে গিয়ে জীবনে কতটা বাঁকবদল ঘটতে পারে, তা জানা নেই। এই গল্পে কীভাবে সমাপ্তি টানা হয়েছে, তা দর্শক জানাবেন ছবি দেখার পর। শুধু এটুকু বলতে পারি, বুদ্ধদেব গুহর 'বাবা হওয়া' ও 'স্বামী হওয়া' কাহিনী নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি সমকালীন বাস্তবতার এক চিত্র।

পরিচালক ব্রাত্য বসুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

কাজের অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। কখনও মনে হয়নি তার সঙ্গে প্রথম কাজ করছি। তিনি গুণী নির্মাতা, একই সঙ্গে অভিনেতাও। শুরুতে ভাবনা ছিল তার সঙ্গে বোঝাপড়া কেমন হবে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেল, প্রথম দিনেই তার সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গেছে। নিজের ভাবনার সঙ্গে নির্মাতার ভাবনার মিলও ছিল অনেক। যে কোনো কাজ তখনই ভালো হয় যখন নির্মাতা ও শিল্পীদের ভাবনার জায়গায় একই রকম হয়ে ওঠে। এই ছবির ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আনন্দ নিয়ে কাজ করেছি।

বাণিজ্যিকভাবে 'ডিকশনারি' সফল না হলেও কি কলকাতার ছবিতে আবার কাজ করবেন?

বাণিজ্যিক সাফল্য বা ব্যর্থতা দিয়ে ছবির মান বিচার চলে না। অনেক ভালো কাজও দর্শকের অগোচরে থেকে যায়। তবে দর্শক যখনই দেখুন না কেন, কাজ ভালো লাগার সম্ভাবনা থেকে যায়। 'ডিকশনারি' ছবিটি নিয়েও আমি একই কথা বলতে চাই। এটি দর্শক দেখুক, তারপর ভালোমন্দের বিচার করুন। আর যেটা জানতে চাইছেন, তার উত্তরে বলব, এই ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতার দিয়ে কাজের সিদ্ধান্তে যাব না। গল্প ভালো হলে কলকাতায় আরও কাজ করব।

কাজের বাছ-বিচারে কোন বিষয়টা গুরুত্ব দেন?

যখন কোনো কাজের প্রস্তাব পাই, তখন দেখার চেষ্টা করি, আপনার চোখে দেখা কিনা। কিংবা সে চরিত্রের সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় না থাকলেও তার সম্পর্কে জানার সুযোগ আছে কিনা। যখন বুঝতে পারি, অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারব, তখনই তা করার বিষয়ে ভাবি।

যখন কারও অনুরোধে কাজ করেন, তখনও কি সুযোগ থাকে নিজের ভাবনা অনুযায়ী কাজ করার?

অনুরোধ রাখতে গিয়ে এমন অনেক কাজ করেছি, যা আমাকে আত্মতৃপ্তি দেয়নি। কিন্তু দর্শকের ভালো লেগেছে জেনে, কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। একটা সময় কেউ কোনো কাজের অনুরোধ করলে 'না' বলতে পারতাম না। এই 'না' বলাটা রপ্ত করতে আমাকে অনেক সময় নিতে হয়েছে।

একনাগাড়ে শুধু অভিনয় করে যাচ্ছেন। এর বাইরে নির্মাণ কিংবা অন্য কিছু করার কথা ভেবেছেন?

অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছু করব কিংবা করা যেতে পারে- এটা ভাবারও সুযোগ পাইনি। দিনের পর দিন অভিনয় নিয়েই ডুবে থাকতে হয়েছে আমাকে। বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি, সেটাও অভিনয়েরই একটা শর্ট ফর্ম হিসেবে করে যাওয়া। তাই এখন পর্যন্ত যে কাজটি করে যাচ্ছি, সেই অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। ভবিষ্যতে যদি পরিচয় বদলের ইচ্ছা বা সুযোগ আসে, তাহলে সেটা সময়ই নির্ধারণ করে দেবে। আগে থেকে ভেবে কী লাভ? তাই ভাবি না।

এ মুহূর্তে কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত। এর মধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় মানি ট্রান্সফার অ্যাপ 'নগদ'-এর বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। এরপর শুরু করেছি তেলাপিয়া মাছের গুজব নিয়ে ফাকরুল আরিফিন নির্মিত একটি ডকুড্রামা।

মন্তব্য করুন