একসঙ্গে এতো নাট্য নির্মাতাদের দেখা যায় না কখনো। কেবল পিকনিক আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নির্মাতাদের এমন মিলনমেলা দেখা যায়। দেখা গেলো আজও। রাজধানীর সিনেমাপাড়া হিসেবে পরিচিত এফডিসিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো নাট্য নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহনে সকাল থেকেই নির্মাদের আসা যাওয়ায় মুখর থাকতে দেখা গেলো এফডিসিকে।

ডিরেক্টরস গিল্ডের এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯৬ জন।  এর মধ্যে ১২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩৪ জন নির্মাতা। ৩৯৬ জন নির্মাতা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য তাদের যোগ্য নেতা নির্বাচন করবেন। 

সকাল থেকে ভোটগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নির্মাতাদের মধ্যে তুমুল আড্ডা। যে আড্ডায় মিশে যান মিডিয়ার প্রতিটি বিভাগের আর্টিস্ট ও নির্মাতারা। 

এবার সভাপতি পদে লড়ছেন সালাহউদ্দিন লাভলু, অনন্ত হিরা ও দীপু হাজরা। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ও এস এম কামরুজ্জামান সাগর।

অন্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদের জন্য দাঁড়িয়েছেন প্রাণেশ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদুল হাসান, মাসুম আজিজ, রফিক উল্লাহ সেলিম ও শিহাব শাহীন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে আছেন চয়নিকা চৌধুরী, ফিরোজ খান ও রকিবুল হাসান চৌধুরী (পিকলু)। সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী তুহিন হোসেন, ফেরারী অমিত ও এসএম মাসুম করিম। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে লড়ছেন মনিরুজ্জামান নাহিদ (নাহিদ জামান) ও মো. সহিদ-উন-নবী।

বেলা তিনটার দিকে ভোট দেন বর্ষিয়ান নির্মাতা ও অভিনেতা আবুল হায়াৎ। তিনি বলেন, ‌'নির্বাচন মানেই তো উৎসব। ভোট দিতে এসে কতদিন পর নতুন পুরোনোদের একসঙ্গে দেখছি। বুকটা ভরে যাচ্ছে। তবে যারাই জয়ী হোন তাদের কাছে আবেদন থাকবে তারা যেন নাটকের উন্নয়নে কিছু করেন। নাটকের মান দিনকে দিন  হারিয়ে যাচ্ছে। চ্যানেলগুলোর আগের আচরণও বদলে গেছে। নির্বাচিত হয়ে যতটা সম্ভব নাটকের গৌরভ ফিরিয়ে আনতে যেন কাজ করেন।'

দুপুরে যখন এক ঘন্টা নামাজের বিরতি  পর্ব চলছিলো তখন এফডিসির ক্যান্টিনের সামনে দেখা গেলো এবার সভাপতি পদে দাঁড়ানো দুই প্রার্থী সালউদ্দীন লাভলু ও অনন্ত হীরাকে। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দীতা থাকলেও খোশ গল্পে মত্ত তারা। একসঙ্গে কুশল জানাচ্ছেন ভোটারদের। এ সময় সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, 'চেয়ে দেখেন কত নির্মাতারা এসেছেন। মনে হচ্ছে আমাদের উৎসব চলছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ছাড়া এত নির্মাতা একসঙ্গে হওয়া খুবই দুষ্কর। সবার মাঝে একটা উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। আর নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবেই। তবে জয়ী যেই হোক সে কিন্তু নির্মাতাদরে স্বার্থ নিয়েই কাজ করবে।'

সালাহউদ্দিন লাভলুর কথা থামতেই বলা শুরু করেন অনন্ত হীরা। তিনি বলেন, 'লাভলু ভাইয়ের সঙ্গে একমত। ভোটগ্রহণ আমাদের একটা উৎসব। আমি আর লাভলু ভাই প্রতিদ্বন্দীতা করছি। আমরা লড়াই করছি ভোটের মাঠে। যেই জয়ী হবেন সে নির্মাতাদের নিয়েই কাজ করবেন। তাই আমি হেরে লাভলু ভাই জিতলেও আমাদের পরাজয় হবে না। 

এদিকে কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই নির্বাচনের মাঠে দাঁড়িয়েছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন তিনি। রাজ বলেন, আমার স্লোগান হচ্ছে, আমি কথায় না কাজে বিশ্বাসী। আমি কিন্তু সংগঠনের প্রয়োজনে, সিনিয়রদের অনুরোধে নির্বাচন করছি। নির্বাচিত হলে আমি কী করবো- সেসব কিছুই বলিনি। কারণ, আমি কাজ করে প্রমাণটা দিতে চাই। তবে নির্বাচনে এসে মনে হচ্ছে সকাল থেকে আমরা  পিকনিক করছি!’

এদিকে নির্বাচনে ভোট গ্রহনের আগেই অর্থ-সম্পাদক পদে মো. সাজ্জাদ হোসেন সনিসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পদে ৭ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগাম নির্বাচিত হয়েছেন। আর কার্যনির্বাহী পদে আগাম নির্বাচিত ৭ জন হলেন- আবু হায়াত মাহমুদ, ইমরাউল হুদা রাফাত, একেএম আনিসুজ্জামান আনিস, কেএম মাহমুদুন্নবী (রিপন নবী), তারিক মুহাম্মাদ হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও হাফিজুর রহমান সুরুজ।

এবার নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেতা-নাট্যব্যক্তিত্ব এস এম মহসীন। এছাড়া নরেশ ভূঁইয়া ও মাসুম রেজা নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছেন। আপিল বিভাগের দায়িত্বে আছেন হাসান ইমাম, আবুল হায়াত ও মামুনুর রশীদ।

মন্তব্য করুন