টেনিসকে বিদায় জানালেন মারিয়া

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

টেনিসই আমাকে নতুন জীবন দিয়েছিল, আমার ভালোবাসা, আমার ভালোলাগা এই টেনিসকে ঘিরে- যাবার বেলায় মারিয়া শারাপোভার এমন আবেগী কণ্ঠই শোনা গেল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য অর্জন ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন পাঁচবার। একটা সময় ছিলেন নারী এককের নাম্বার ওয়ান। ২০০১ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রথম আরাধ্যের ট্রফি জেতেন ২০০৪ সালে উইম্বলডন দিয়ে। এরপর এক এক করে গ্র্যান্ডস্লামের সব কোর্টে করেছেন উৎসব। শৈশব-কৈশোর থেকে টেনিসকে মনের মধ্যে লালন করার পর ৩২ বছরে টানলেন ইতি। বললেন, 'বিদায় টেনিস'।

যেভাবে শুরু

চার বছর বয়সে বাবার হাত ধরে টেনিস শেখা। ছয় বছর বয়সে মস্কোর টেনিস একাডেমিতে ভর্তি হওয়া। ধীরে ধীরে আরও শক্ত হাতে র‌্যাকেট ধরা, দারুণ স্বপ্ন দেখা- একদিন বিশ্বের সেরা টেনিস খেলোয়াড় হবেন। ২০০০ সালের দিকে রাশিয়ার জুনিয়র টেনিসেও ডাক পেয়ে যান। সেখানেই বাজিমাত। ছোট্ট শারাপোভার খেলা দেখে মুগ্ধ হন অনেকে। তিনি নিজেকে নিয়ে যান আরও উঁচুতে। জুনিয়র টেনিসে বিশ্বের সেরা দশজনের একজন হয়ে ওঠেন। ২০০৩ সালে প্রথম টেনিসের কোনো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেন। ওই বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই তার বিদায় হয়। বছরের বাকি দুই গ্র্যান্ডস্লাম উইম্বলডন আর ইউএস ওপেনে আরেকটু অগ্রগামী হলেও পারেননি সেভাবে আলো ছড়াতে।

সেরা সময়

২০০৫; পেশাদার টেনিসে দারুণ সময়ের মধ্য দিয়ে পার করেন শারাপোভা। যদিও সেবার বড় কোনো অর্জনের দেখা পাননি তিনি। তবে নারী এককে সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের আসনে বসেন। এর পেছনে অবশ্য কারণও ছিল। তিনটি গ্র্যান্ডস্লামে সেমি আর একটিতে কোয়ার্টার পর্যন্ত গিয়ে বিদায় নেন তিনি। তাতে জয়-পরাজয়ের হিসাবে সবাইকে ছাড়িয়ে যান। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জিতে নেন স্বপ্নের তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম। এরপর ২০১২ ও ২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের রানীর মুকুট ওঠে তার মাথায়।

দুঃসময়

বাজে একটা সময় ২০১৬। একে তো ইনজুরি, তার ওপর ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণ হওয়ায় টেনিস থেকে নিষেধাজ্ঞা। শুরুতে দুই বছরের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন। দীর্ঘ এ নিষেধাজ্ঞা সহজভাবে নেয়নি রাশিয়া। শারাপোভার শাস্তি কমানোর জন্য ভেতরে ভেতরে তারা বেশ দৌঁড়ঝাপ করে। শেষমেশ ২০১৬ সালের অক্টোবরের দিকে তার শাস্তি ১৫ মাসে কমিয়ে আনা হয়।

যেখানে শেষ

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর অনেকটা ছন্দ হারিয়ে ফেলেন শারাপোভা। প্রথম কিছুদিন নিজের পুরোনো ফিটনেস ফিরে পেত দিন-রাত পরিশ্রম করেন। এর পর নামেন আসল লড়াইয়ে। কিন্তু কোথায় জানি গণ্ডগোল! আগের সেই শারাপোভার সঙ্গে এই শারাপোভার আকাশ-পাতাল তফাৎ। সর্বশেষ এ বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও নিষ্প্রভ শারপোভার দেখা মেলে। প্রথম রাউন্ড থেকেই বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।