সিলেট-৩

মাহমুদ-উস-সামাদের বিকল্প নেই এবারও

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৮

সিলেট ব্যুরো

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ একাংশ) আসনের সাংসদ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী কয়েস। ম্যাট্রিক পাস করেই চলে যান যুক্তরাজ্যে। বিলেতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে আবার ফিরে আসেন দেশে। গড়ে তোলেন শিল্পকারখানা। কর্মসংস্থান করেন অনেক বেকারের। দু'বার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে তার নির্বাচনী এলাকা আধুনিক ও নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নিজ দলে কোনো অপরাধী থাকলেও ছাড় দেন না। এ কারণে আসনটিতে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে এবং আগামী নির্বাচনে কোনো বিকল্প নেই তার। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় অনেকেই এমন মন্তব্য করেছেন।

মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী যখন নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছিলেন, ঠিক তখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য ডাক পড়ে তার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে মাত্র ২৪৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। সামান্য ভোটে হেরে গিয়েও থেমে থাকেননি। পরাজয়ের কারণ খুঁজতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী কর্মী বাহিনী। এ অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার প্রার্থী করা হয় তাকে। তখনও ওই এলাকা ছিল অনেকটা বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি। এবার পরাজিত হন ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে।

তবু দমে যাননি মাহমুদ-উস-সামাদ। এলাকার উন্নয়নে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেন নিজেকে। পরাজয়ের কারণ নির্ণয়ে নেতাকর্মী তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আবার। ঘরে-ঘরে হাঁটা শুরু করেন। অনেকটা ফলও পান এ অবস্থায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাঘা-বাঘা প্রার্থীদের পেছনে ফেলে ৪৮ হাজার বেশি ভোট পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। আর ২০১৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

গত ১০ বছরে তার এলাকায় নৌকার ঘাঁটি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে অনেক। তার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে কয়েকগুণ, ভোটও বেড়েছে নৌকার। আর এটি হয়েছে তার নিরলস প্রচেষ্টায়। এলাকায় ছোট-বড় যে কোনো সমস্যা নিজেই সমাধান করে দেন। ভালোবেসে কাছে টেনে নেন উভয় পক্ষকে। এ কারণে তার আসনের থানাগুলোতে মামলার সংখ্যাও কম। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছাড়া থানায় মামলা হয় না বলে জানান কয়েস।

বর্তমান সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে, অতীতে কোনো সরকারের আমলে হয়নি জানিয়ে কয়েস বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জের একাংশে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। তার নির্বাচনী তিনটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। শুধু গ্রামীণ সড়ক হয়েছে ২০০ কিলোমিটার। একই সময়ে সংস্কার হয়েছে ১৬০ কিলোমিটার। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথের ৬০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের জন্য ৭৬ কোটি ও ফেঞ্চুগঞ্জ-পালবাড়ি সড়কের জন্য ৪৬ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, কাজ শুরু হবে আগামী নভেম্বরে।

মাহমুদ-উস-সামাদ জানান, দক্ষ নেতৃত্বের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুৎ, আইন-শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি হয়েছে গত ১০ বছরে। শিক্ষার উন্নয়নে নির্বাচনী এলাকায় একাধিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তার এলাকাতেই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এ সফলতার প্রভাব পড়েছে সিলেটসহ সারাদেশে।

নির্বাচনী এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার উন্নয়ন  অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর বিকল্প নেই। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আকরাম হোসেন বলেন, 'এই পরিবারের ঋণ আমরা কোনো দিনও শোধ করতে পারব না। তার বাবা ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠকও ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বাড়ি ছিল হিন্দু পরিবারের সদস্যদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। রাতে তার বাবাসহ এলাকার লোকজন বাড়ি পাহারা দিতেন। তার বাবার কারণে এলাকার লোকজন সে সময় ছিল অনেকটা নিরাপদ।'

ওই মুক্তিযোদ্ধা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখেশুনে, জেনে-বুঝে তাকে প্রার্থী করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। পাকিস্তানি বাহিনী সেটি জেনে আমার মা-বাবাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু তার বাবাই পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছেন তাদের।'

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশের প্রথম করদাতা মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম বলেন, 'সিলেট-৩ আসনে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। কয়েস এমপি হওয়ার পর দৃশ্যপট অনেকটা পাল্টে গেছে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে উন্নয়ন হয়েছে। এখন তার বিকল্প নেই সিলেট-৩ আসনে।'

বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, 'বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় পিছিয়ে ছিল আমাদের এলাকা। বর্তমান সরকারের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এক সময় বিদ্যুতের জন্য আন্দোলন করেছি। এখন আন্দোলন করতে হয় না। সব মিলিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে সিলেট-৩ আসন।'

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী বলেন, 'বিগত ১০ বছরে মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী যে উন্নয়ন করেছেন, আগামী নির্বাচনে সেটিই তার ভরসা। তাকে জয়ী করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি। এবার প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন তিনি।'