১৮ এপ্রিল দৈনিক সমকালের সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত রাশেদ খান মেননের লেখাটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি 'তালেবানি অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করছি?' শিরোনামের লেখাটিতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার প্রসঙ্গ এনেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন কওমি মাদ্রাসা হেফাজত নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কওমি শিক্ষার্থীরাই তাণ্ডব চালিয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সব কওমি মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের নিয়ন্ত্রণ যেমন নেই, তেমনি কওমি শিক্ষার্থীরাই যে কেবল তাণ্ডব চালিয়েছে- এ অভিযোগও সত্য নয়। গড়পড়তা সব কওমি শিক্ষার কথা তিনি যেভাবে বলেছেন, তা ঠিক নয়। কওমি মাদ্রাসা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাধারা। সুদীর্ঘকাল ধরে এ শিক্ষাধারা বাংলা অঞ্চলের মানুষকে যেমন ধর্মীয়ভাবে আলোকিত করে আসছে; তেমনি স্বাধীনতা সুরক্ষা, উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন, সমাজ সংস্কার, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, অসাম্প্র্রদায়িক জাতি বিনির্মাণসহ বিভিন্নভাবে কওমি শিক্ষার্থীরা অবদান রেখে চলছে।

কওমি সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে কওমি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ-উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে। কওমি সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির মান দেওয়া হয়েছে একটি বোর্ডের অধীনে। তাদের কর্মসংস্থানে কাজ করছে সরকার। তাদের দেশের উন্নয়নের বিপরীত না ভেবে বরং তাদের নিয়ে কীভাবে সমন্বিত উন্নতি হতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এ ক্ষেত্রে তাদের সিলেবাসের আধুনিকীকরণসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ করা দরকার।

রাশেদ খান মেনন, 'তালেবানি অভ্যুত্থানের' বিষয়টিকে যেভাবে বড় করে তুলেছেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং শান্তিপ্রিয়। কওমি মাদ্রাসায় যারা পড়াশোনা করে তারা আমাদেরই সন্তান। যখন বলা হয় কওমিরা তাদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করবে, তখন আদতে তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। তা না করে কওমি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ নেওয়া একই সঙ্গে জরুরি। বিপুল জনগোষ্ঠী যেন আলোকিত হতে পারে সঠিক শিক্ষার আলোয়।

ঢাকা

মন্তব্য করুন