গত ৭ এপ্রিল সমকালের শেষ পাতায় খুলনায় ঘুমন্ত অবস্থায় তানিশা আক্তার নামে এক শিশুকে সৎমা কর্তৃক অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ হয়। বিষয়টি ন্যক্কারজনক। পুলিশ ঘাতক মুক্তা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। শিশুদের ওপর দেশে যে ধরনের আচরণ দেখছি তা লজ্জাজনক। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার শিশুপুত্র আব্দুর রহমান গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরণের শিকার হয়। আব্দুর রহমানকে অপহরণের সময় অপহরণকারীরা তার বাবার মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায়।

শুধু খুলনার তানিশা, সাভারের রাজা, মুরাদনগরের আব্দুর রহমান নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ানক নিষ্ঠুরতায় মারা গেছে একাধিক শিশু। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে আরেকটি বীভৎস ঘটনা। একের পর এক এমন নিষ্ঠুর ও বীভৎস ঘটনায় ক্ষুব্ধ, হতবিহ্বল অভিভাবকরা। শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট আইন আছে। কিন্তু আইন থাকলেই হয় না। আইনকে তো শুধু কিছু লিখিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। এর একটা দার্শনিক দিক আছে। আমার বিবেচনায় সমাজে মূল্যবোধ ও মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের প্রকাশ এই শিশু হত্যা। শিশুর প্রতি সহিংসতা মানে দুর্বলের প্রতি সহিংসতা। এটা বিবেচনা করলেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যায়।

শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় কৌশলগুলো নিশ্চিত করতে হবে। শিশু হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন রোধ করতে শিশুদের আলাদা অধিদপ্তর আমাদের দরকার। শিশু নির্যাতনের প্রতিটি জায়গায় দেখা যায় এটি সামাজিক সমস্যা। শুধু আইন দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সামাজিকভাবেই এটি মোকাবিলা করতে হবে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়েই কাজ করতে হবে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশের সংগঠিত শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা অনেক সময় পারিবারিক পরিমণ্ডলে পরিচিতদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে। এ কারণে আরও অধিক সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। সেসঙ্গে শিশু রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি দায়িত্ববান হওয়ার পাশাপাশি শিশু অধিকার রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শ্রীমঙ্গল

feature.ismail2021@gmail.com

মন্তব্য করুন