গত ২৪ এপ্রিল সমকালের ২নং পাতায় 'রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবাসহ তিন পুলিশ সদস্য আটক' শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অপরাধ ধমনে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে তারাই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত! পুলিশের অপকর্ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই এমন নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়, যা আমাদের খুবই হতাশ করে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আজকের নয়, বহুকালের। হাইওয়ে থেকে শুরু করে ফুটপাত- সব জায়গায় পুলিশের চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম। উখিয়ার ঘটনায় পুলিশ সদস্য আটক হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বিচার নিয়ে সংশয় থেকে যায়। পুলিশ জনগণের বন্ধু- এমন বাণী কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে অনেকটাই সাংঘর্ষিক। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসূত্র করে অনেক পুলিশ সদস্য নানা অপরাধ ও অপকর্মে লিপ্ত, যা সমগ্র পুলিশের ভালো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশকে ঘুষ দেওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

আরেকটি জাতীয় দৈনিকের খবর, বগুড়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯৮টি ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধার করে। সেখানে থেকে ৮৮টি বোতল বিক্রি করে ফেলেছে। এই অভিযোগ এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, শুধু তাই নয়। করোনা মহামারিতে পুলিশ যেমন ভালো কাজ করেছে, তেমন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নয়। কিছুদিন আগে এক আইনজীবীকে হয়রানি করেছে পুলিশ। আমরা প্রায় দেখি বিমানবন্দরে কাস্টমের অনেক জিনিস পুলিশ উদ্ধার করে, এগুলো হাওয়া হয়ে যায়। তাই তো শর্ষের ভেতর থেকে ভূত তাড়াতে হবে সর্বাগ্রে।

পুলিশ জনগণের বন্ধু, তা কতটুকু বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে- সেটাই প্রশ্নের বিষয়! তবে পুলিশের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যেও আমরা তাদের অনেক মানবিক কাজ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগও দেখে থাকি।

চট্টগ্রাম জেলায় সাতকানিয়া উপজেলায় পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের কথা, নিজের বেতনের টাকা দিয়ে এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার ও নতুন কাপড় বিতরণ করেন। সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে বলা হয়, 'সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান।' আসলে কি সব নাগরিক পুলিশের সহযোগিতা পায়। আমরা চাই পুলিশ দায়িত্ব পালনে আরও সহায়ক হোক এবং মানবিক পুলিশ হিসেবে জনগণ যেন তাদের পাশে পায়- তেমনটাই প্রত্যাশা থাকবে।

সমাজকর্মী

takdirhossain786@gmail.com

মন্তব্য করুন