৩ মে সমকালের সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে শেখ ইউসুফ হারুন লিখেছেন 'বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ সময়ের দাবি'। লেখাটিতে লেখক বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণে যে যুক্তি দিয়েছেন তা অস্বীকার করা কঠিন। এ সমস্যার সমাধানে পারিবারিক দায়িত্বের প্রতি আলোকপাত না করে আমরা যদি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের প্রসারে দৃষ্টি দিই তাতে সংকট আরও বাড়বে বৈ কমবে না।

লেখক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে একজন আমলার উদাহরণ টেনেছেন এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি দেখেছেন। প্রথম কথা হলো বৃদ্ধাশ্রমের গোটা বিষয়টি আমলাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা কতটা সংগত। তিনি যে শ্রেণির কথা বলেছেন তারা সমাজের ক্ষুদ্র অংশ। তাদের চোখে বৃদ্ধাশ্রম দেখতে গেলে বড় অংশকে বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তিনি কেবল একটি অংশের বিষয় বলে আসলে অন্যদের বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছেন। লেখকের ভাষায়- 'রাষ্ট্র সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে, যা বাজেটের প্রায় ১৬.৮৩%। একসময় যারা দেশের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন, তাদের দায়িত্ব কি রাষ্ট্র নিতে পারে না?' অথচ আমরা জানি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বস্তুত দেশের 'সিনিয়র সিটিজেন'দের মর্যাদাসম্পন্ন অবসর যাপনের জন্য পারিবারিক ব্যবস্থাই সংগত। সেজন্য পারিবারিক দায়িত্ব ও মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে লেখক সরকারের ্তুপিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এর উদাহরণ টেনেছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিক। লেখক আরও মত দিয়েছেন- 'আমার মনে হয়, কোনো ছেলেমেয়ে তার পিতামাতাকে বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনা না করলে তারা পিতামাতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন, এ রকম একটি ধারা এ আইনে যুক্ত করা আবশ্যক।' তার এ মতও যুক্তিযুক্ত। আর বৃদ্ধাশ্রমের বিষয়টি ঠিক এ দৃষ্টি থেকেই দেখা জরুরি।

আইনের পাশাপাশি মা-বাবার প্রতি সন্তানের অধিকার ও কর্তব্যের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং বৃদ্ধদের প্রতি সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করার জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া দরকার।

ঢাকা

মন্তব্য করুন