গত ১৮ এপ্রিল সমকালের প্রথম পাতায় 'নমুনা পরীক্ষা কমছে কেন' শিরোনামে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দেশে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ধরনটির সংক্রামক ক্ষমতা আগেরটির চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। তা ছাড়া শিশু ও তরুণরাও সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে জনজীবনকে এককথায় স্থবির করে রেখে সংক্রমণ পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা এখনও পরিস্কার নয়। এটা স্পষ্ট করতে হলে আবশ্যিকভাবেই নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

নমুনা পরীক্ষা কম হলে স্বাভাবিকভাবেই শনাক্তের হারও কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্নিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ের সময় থেকেই অধিক হারে নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দিলেও আমাদের দেশে নমুনা পরীক্ষার পরিমাণও যেমন বাড়ছে না, তেমনি পরীক্ষা হচ্ছে প্রায় শহরকেন্দ্রিক। তা ছাড়া করোনাভাইরাস গ্রামাঞ্চলের সিংহভাগ মানুষের ভাবনা ও জীবনযাত্রায় এখনও বিন্দুমাত্র ভীতি বা সচেতনতার জন্ম দিতে পারেনি। ফলে করোনা প্রতিরোধে চলমান গণটিকাদান কর্মসূচিতেও তাদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। তা ছাড়া দু'দফা লকডাউন শুরুর আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছে। এদের অনেকের সংক্রমণের উপসর্গ থাকলেও তারা নমুনা পরীক্ষার বাইরে থাকায় স্বাভাবিক চলাফেরা করে অন্যদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করুন। সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারলেই এর প্রতিরোধে উপযুক্ত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

বনরূপাপাড়া, সদর, বান্দরবান

মন্তব্য করুন