শীত পোশাকের খোঁজে

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কামরুজ্জামান কাজল

নরম রোদ জানান দিচ্ছে শীতের। উপভোগ্য শীতের দিনের একটা ফুরফুরে ভাবের সঙ্গে শীত পোশাক কেনাকাটার একটা বিষয় চলে আসে সামনে। বাসার প্রবীণ কিংবা শিশুদের শীত পোশাকের আয়োজন একটু আগেই করতে হয়। শীত পোশাক ও ফ্যাশন একসঙ্গে হয়- এমন পোশাকের অভাব নেই। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস তাদের পসরা সাজিয়েছে শীত পোশাকের। সেটার সঙ্গে রাজধানীর কিছু মার্কেট যেমন নূরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার এই শীত পোশাকের জন্য খুব বিখ্যাত। শীতের নানা ঢংয়ের পোশাক পাওয়া যায় এ মার্কেটগুলোয়।

নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, এলিফ্যান্ট রোড ছাড়াও ফার্মগেট, বঙ্গবাজার, বায়তুল মোকাররম, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১ গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতে ফ্যাশনপণ্যের বিপণিগুলোয় বসেছে শীতবস্ত্রের পসরা। নিম্ন আয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব দোকান থেকে কেনাকাটা করছেন।

ছেলেদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের পোশাক- কলার গলা, সামনে চেইন, বোতাম, গলা আটকানো, জাম্পার, জ্যাকেট, কোট ইত্যাদি। এসব পোশাক সাধারণত চামড়া, রেক্সিন, উল ইত্যাদি দিয়ে তৈরি, যা শীতের ঠান্ডা হাওয়া থেকে আপনাকে দেবে উষ্ণতা। ডেনিম বা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের তৈরি পোশাকেরও রয়েছে বেশ চাহিদা। শীত মেয়েদের জন্য ফ্যাশনেবল ঋতুও বলা যায়। শীতে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ফ্যাশনেবল কালেকশন বেশি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে সোয়েটার, উলের কার্ডিগান, বিভিন্ন ধরনের ব্লেজার, নানা ধরনের স্টাইলিশ চাদর, শাল ইত্যাদি। অনেকের পছন্দ কাশ্মীরি শাল। তবে এ শালগুলোর দাম একটু বেশি।

ঢাকা কলেজের উল্টো পাশে বদরুদ্দোজা মার্কেটে শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন আবুল কাশেম। তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে আমার এই ব্যবসা। তবে শীত ছাড়া অন্য সময়ে তার দোকানে টি-শার্ট, গেঞ্জিসহ বিক্রি হয় ছেলেদের নানা ধরনের পোশাক। শীত শুরুর আগে থেকেই আমরা ফুলহাতার পোশাক নিয়ে আসা শুরু করি। প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়। বঙ্গবাজার ও গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার থেকে এই পোশাকের সংগ্রহ আসে বলে জানান তিনি। নানা ধরনের শীতবস্ত্রের পাশাপাশি শীতের আনুষঙ্গিক হিসেবে চাহিদা রয়েছে হাতমোজা, পা মোজাসহ বিভিন্ন ধরনের টুপির।

মার্কেট ঘুরে শীতের পোশাক কেনার পর টুপি-মোজার দোকানে এসেছেন ঢাবির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলপনা। তিনি বলেন, 'ভাইয়ের জন্য শীতের কাপড় কিনলাম। সামনে কক্সবাজার কিংবা সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। তাই ভাবছি টুপি কেনা দরকার।'

নূরজাহান শপিং কমপ্লেক্সে সারাবছরই মেলে শীতের নানা ধরনের পোশাক। দুই হাজার থেকে শুরু করে আট-নয় হাজার টাকা দামের পোশাকও পাওয়া যায় এখানে। এই মার্কেটের দোকানিরা বলেন, 'শীত ছাড়া অন্য মৌসুমে যারা দেশের বাইরে যান, তারা এখান থেকে গরম কাপড় কেনেন। শীতকালে মোটামুটি সবাই ভিড় করেন এখানে।'

এতসব দোকান ঘুরে দেখার পর চোখ যায় ঢাকা কলেজের পাশে নিজের স্বল্প পুঁজি নিয়ে মইজউদ্দিন নামের এক বৃদ্ধের মাফলারের দোকানে। প্রতিটি রুমাল কিংবা ছোট মাফলার ২০ টাকা করে বিক্রি করছেন তিনি। তার ওখানে আছে রং-বেরংয়ের নানা মাফলার। ধরন বুঝে এগুলোর দাম একেক রকম।

এ ছাড়া চোখে পড়ে কিছু পুরোনো, রং ঝলসে যাওয়া সোয়েটার আর জ্যাকেট। নিম্নবিত্ত কিংবা দারিদ্র্যসীমারও নিচে বসবাস করছেন এমন ক্রেতাদের জন্যই যে এই পসরা সাজানো হয়েছে, তা সহজেই বোঝা হয়।



দামের রকমফের

বিভিন্ন পোশাকের দামেও ভিন্নতা রয়েছে। তবে পোশাকের মান অনুযায়ী মেয়েদের হালকা শীতের পোশাক কিনতে পারবেন ২০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর সবসময় ব্যবহারের চাদরগুলো ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। তবে যে কোনো পোশাকই ভালো দোকানে একটু বেশি নিতে পারে। ছেলেদের ক্ষেত্রেও দামের ভিন্নতা রয়েছে। নরমাল ফুল হাতার টি-শার্ট ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। গেঞ্জির কাপড়ের সোয়েটার কিনতে পারবেন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। উলের সোয়েটার জাম্পার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ছেলেদের ক্ষেত্রে রেক্সিনের ব্লেজারের দাম একটু বেশি- এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। নরমাল ক্যাজুয়াল ব্লেজার পাবেন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।