ওভেন জীবন সহজ করে

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

শরীফুল শাওন

ঘড়ির কাঁটায় সময়। চটজলদি সবকিছুতে। সাংসারিক কাজগুলোও তেমন। যত সহজে করে ফেলা যায়। আর রান্নার কাজটি সহজ করে দেয় ওভেন। খাবার গরম থেকে শুরু করে নানারকম খাবার তৈরিতে ওভেনের জুড়ি নেই। কোন পরিবারের জন্য কেমন ওভেন। এর ব্যবহারের নানা দিক। সঙ্গে রইল ওভেন কেনাকাটার খোঁজখবরও

ঝটপট রান্না। চটপটে জীবন। এখন জীবনধারাটাই আমাদের এমন হয়ে গেছে। নাগরিক জীবনে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌড়াতে হয় প্রতিনিয়ত। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না অনেকেই। তাই যতটুকু পারেন সবাই চেষ্টা করেন নিজেদের কাজটুকু সহজ করে নিতে। ঘরের কাজ ও জীবন ধারণের কাজটুকু সহজ হয়ে গেলে সুবিধা হয় অনেক। ঘরের কাজ ও জীবন সহজ করে এমন গৃহস্থালি সহায়ক পণ্যের কথা বলতে গেলে ওভেন আসে প্রথমেই। রান্নার কাজটি সহজ করার জন্য যেসব ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে মাইক্রোওয়েভ অন্যতম। দ্রুত খাবার গরম করার পাশাপাশি কিছু মাইক্রোওয়েভে খাবার রান্না করারও অপশন রয়েছে। কেক, ডেজার্ট, চিকেন তন্দুরি মাইক্রোওয়েভে সহজেই রান্না করা যায়।

বর্তমানে বাজারে তিন ধরনের ওভেন পাওয়া যায়

১. গ্যাস ওভেন :গ্যাস ওভেন গ্যাসের মাধ্যমে চালিত। এতে স্বাভাবিক চুলার মতো বার্নার থাকে। বার্নারে স্বাভাবিক রান্নাবান্না করলেন। ওভেনে বেকিং ও গ্রিল করতে পারবেন।

২. ইলেকট্রিক ওভেন :ইলেকট্রিক ওভেনে প্রায় সব ধরনের খাবার রান্না করা সম্ভব। এ ওভেনে সরাসরি হিটার লাগানো থাকে এবং তা থেকে গরম বাতাস বের হয়ে খাবারকে গরম করে। তবে দাম কম হলেও বেশি বিদ্যুৎ খরচের কারণে এটি না ব্যবহার করাই ভালো। ইলেকট্রিক ওভেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা- এখানে গ্রিল, কেক এসব ভালোভাবে করা যায় না।

৩. মাইক্রোওয়েভ ওভেন :মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মূল ম্যাজিকটা হলো, আপনি যখন প্লেটে করে খাবার গরম করতে দেবেন, তখন প্লেট বা পাত্র গরম না হয়ে শুধু খাবারটাই গরম হবে। তাছাড়া মাইক্রোওয়েভ ওভেনের নামের মধ্যেই এর বিশেষত্ব বুঝানো আছে। ইংরেজিতে ব্যাপারটি পরিস্কার বুঝতে পারবেন। Micro + wave + oven = Microwave oven
(যাকে আমরা সচরাচর 'মাইক্রোওভেন' নামে ডেকে থাকি)। মাইক্রোওভেনে আসলে মাইক্রোওয়েভসের মাধ্যমে খাবার গরম করা হয়। সাধারণত ২৫০০ মেগা হার্জ বা ২.৫ গিগা হার্জের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় এসব যন্ত্রে। এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তা হলো এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গ কেবল পানি, চর্বি এবং চিনি জাতীয় বস্তু দ্বারা শোষিত হয়ে কম্পাঙ্ক তৈরি করে।

আর শোষিত হওয়া মাত্রই তরঙ্গটি আণবিক তাপগতিতে পরিণত হয় এবং বস্তুটিকে গরম করে। সিরামিক, গ্লাস এবং অধিকাংশ প্লাস্টিক এই তরঙ্গ শোষণ করতে পারে না; এ জন্যই ওভেনে পাত্র গরম হয় না এবং শক্তিরও অপচয় হয় না। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে কখনও ধাতব পাত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ ধাতব পাত্র মাইক্রোওয়েভকে প্রতিফলিত করে এবং খাবার গরম হতে বাধা দেয়।

পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী মাইক্রোয়েভ ওভেন নির্বাচন করা সহজ যখন পরিবারের সদস্য দু'চারজন, তখন ওভেন কিনতে হবে ১৭-২০ লিটার, পাঁচ-সাতজন হলে ২১-২৫ লিটার। আর সদস্য যখন আট থেকে ১০ জন, তখন ২৬-৩০ লিটার ওভেন কিনতে পারেন। ওভেন কেনার আগে যে পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-

ষ প্রথম ঠিক করে নিন কী কাজে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করবেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করুন কোন ধরনের মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিনবেন-Convenction, Grill
নাকিSolo।

ষ মাইক্রোওয়েভ মোডে নূ্যনতম ৫ পাওয়ার লেভেল আছে কি-না।

ষ কন্ট্রোল প্যানেল সহজে পরিচালনা করা যায় কি-না এবং ব্যবহারকারীর জন্য সহজবান্ধব কি-না।

ষ পরিস্কার নিশ্চিত করার জন্য ইজি ক্লিনিং অপশন আছে কি-না।

ষ ওয়ারেন্টি সুবিধা আছে কি-না।

ওভেন ব্যবহারের আগে জেনে নিন ওভেনে যেসব জিনিস করা যাবে না।

ষ মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিয়ে ডিম সিদ্ধ করা যাবে না। কারণ এটি ওভেনের ভেতরে বিস্টেম্ফারিত হবে।

ষ মাইক্রোওয়েভ ওভেনে কোনো কিছু বেশি কড়া করে ভাজা যাবে না। কড়া করে ভাজার সময় তেল অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।

ষ ওভেন প্রুভ পাত্র ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। পাত্র ওভেনপ্রুভ কি-না তা পাত্রের নিচে বা যে কোনো জায়গায় লেখা থাকবে।

ষ ওভেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। কিছু কিছু সামগ্রী ওভেনের ভেতরে কখনই দেওয়া যাবে না।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মোড়ানো যে কোনো খাবারের বক্স বা খাবারের টিন কিংবা কনটেইনার মাইক্রোওয়েভে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে আগুন লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্লাস্টিক কনটেইনার

এই কাজটি কমবেশি আমরা সবাই করে থাকি। এটিতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা প্লাস্টিক কনটেইনারের তেমন ক্ষতি না হলেও আপনার খাবারের মান কমে যায় অনেকখানি। প্লাস্টিক কনটেইনার যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, তার মধ্যে বিপিএ অন্যতম। খাবার যখন প্লাস্টিক কনটেইনারে গরম করতে দেওয়া হয়, তখন এর রাসায়নিক উপাদানগুলো তাপে গলে খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টকদইয়ের কনটেইনার

ওয়ানটাইম ইউজেবল প্লাস্টিক কনটেইনার যেমন টকদই, ক্রিম বা অন্য কিছুর কনটেইনার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে দেওয়া যাবে না। এগুলো শুধু একবার মাত্র ব্যবহারযোগ্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে এ কনটেইনারগুলো মাইক্রোওয়েভে দেওয়া হলে এর কেমিক্যাল উপাদানগুলো মাইক্রোওয়েভের তাপে গলে খাবারের সঙ্গে মিশে যায়।

চায়না বা ডিজাইন সিরামিক প্লেট

ইউএসডির মতে, মেটালিক ডিজাইন করা সিরামিক প্লেট বা চায়না প্লেট মাইক্রোওয়েভ ওভেনে দেবেন না। মাইক্রোওয়েভের তাপ মেটালিক ডিজাইনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ক্ষতি করে থাকতে পারে।

দরদাম

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটে বিভিন্ন মডেল ও আকারের মাইক্রোওয়েভ ওভেন পাওয়া যায়। আকারের (লিটারের) ওপর এগুলোর দাম নির্ভর করে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাইক্রোওভেনগুলোর দাম তিন হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। এর মধ্যে ভিশনের ২০ লিটারের মাইক্রোওভেনের দাম সাত হাজার ১০০ থেকে আট হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৫ লিটারের স্মার্ট মাইক্রোওভেনের দাম ১২ হাজার ৮০০ ও ৩০ লিটারের স্মার্ট মাইক্রোওভেন ১৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৫ লিটারের ওভেন ১২ হাজার ৮০০ টাকার পরিবর্তে পাওয়া যাবে ১২ হাজার ১৬০ এবং ২০ লিটারের ওভেন পাওয়া যাবে ৯ হাজারের পরিবর্তে আট হাজার ৫০০ টাকায়। া



বাজারে এখন স্যামসাং, ফিলিপস, ন্যাশনালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওভেন কিনতে পাওয়া যায়। তবে বাজারের লোকাল বেশিরভাগ প্রোডাক্টই এখন চীনের তৈরি। চীনা ব্র্যান্ডের অধিকাংশ ওভেনই একটু নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি বলে এসব ওভেন বেশিদিন টেকসই হয় না। তাই চেষ্টা করতে হবে বাজেটটা একটু বাড়িয়ে কোনো ব্র্যান্ড শোরুম থেকে ওভেন কিনতে। এলজির কিছু কালো রংয়ের ইনভার্টার ওভেন আছে, যা ১০ বছরের ম্যাগনেট্রোন ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে।

এ ছাড়া ওয়ালটন, ওয়ার্লপুল, ইকোপ্লাস, ইলেকট্রা, সিঙ্গার, প্যানাসনিক, এলজি, সনি-র‌্যাংগস, শার্প, মিনিস্টারের বেশ কয়েকটি মডেলের মাইক্রোওভেন পাওয়া যায়। আরএফএল গ্রুপের চেইনশপ ভিশন এম্পোরিয়াম ও বেস্ট বাই, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস লিমিটেড, ওয়ালটন, সিঙ্গার, প্যানাসনিক, এলজি, সনি-র‌্যাংগস, শার্প, মিনিস্টারের শোরুমে এ পণ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিউমার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক মার্কেট, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে মাইক্রোওভেন পাওয়া যায়।া

কোথায় পাবেন