ঘুম কেড়ে নেয় রঙ!

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রঙের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক- এ যেন বিশ্বাসই করা যায় না! গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের ঘুম-ঘুম ভাব কেড়ে নিয়ে মস্তিস্ক সজাগ করে তুলতে পারে একটি বিশেষ রঙ। রঙটির নাম 'সায়ান'। সহজে বলা যায়, সবুজ আর নীল মেশালে যে রঙ হয় সে রকম। জীব বিজ্ঞানীদের মতে, এই রঙের মধ্যে এমন একটি গোপন উপাদান আছে, যেটা এক নিমিষে মানুষের ঘুম তাড়িয়ে মস্তিস্ককে সজাগ করে তুলতে পারে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছে, চোখের সামনে এই সায়ান রঙ বেশি মাত্রায় থাকলে মানুষের ঘুম কমে যায়। অন্যদিকে, এই রঙ সরিয়ে রাখলে ঘুমিয়ে পড়া সহজ হয়। গবেষকরা জানান, তারা কল্ফিপউটার এবং মোবাইলের স্ট্ক্রিনের জন্য এমন কোনো জিনিস তৈরি করতে চান যেটা দিয়ে সায়ানের রঙের মাত্রা কমানো-বাড়ানো যাবে।

গবেষকরা এরই মধ্যে ঘুমের সঙ্গে রঙের একটি সল্ফপর্ক স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ডিভাইস থেকে যে নীল রঙের আলো বিচ্ছুরণ হয়, সেটা ঘুমের বিলম্ব ঘটায় বলে চিহ্নিত করেছেন। এ কারণেই স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের সেটিংসে 'নাইট মুড' নামে একটি অপশন থাকে। যেটা এই রু লাইটের পরিমাণ কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। এতে রাতের বেলা ঘুমের ব্যাঘাত কম হয়। এ নিয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানীরা সুইজারল্যান্ডের বাসেন শহরে গবেষণা পরিচালনা করেন। যখন মানুষ চোখের সামনে কম বা বেশি পরিমাণ সায়ান রঙ দেখতে পায়, তখন গবেষকরা তাদের লালার নমুনা থেকে স্লিপ হরমোনের মাত্রার তারতম্য পরিমাপ করতে পারেন। অধ্যাপক রব লুকাস জানান, সায়ান রঙের সঙ্গে মিলিয়ে যদি অন্য কোন রঙ তৈরি করা হয় তাহলে সেটাও মানুষের ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে।

মানুষকে যদি জাগিয়ে রাখার লক্ষ্য থাকে সেক্ষেত্রে কম্পিউটারের স্ট্ক্রিনে সায়ান রঙ বা এর সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা অন্য কোন রঙ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তবে যদি লক্ষ্য থাকে ঘুম বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমস্যা কমানো তাহলে কম্পিউটারে স্ট্ক্রিনে এমন রঙ রাখতে হবে যেখানে সায়ানের কোনো মিশ্রণ নেই। অধ্যাপক রব লুকাস এবং ডক্টর এনেটে অ্যালেন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষক দলটি জানায়, এই আবিস্কার বিষয়ে কম্পিউটার, টেলিভিশন বা স্মার্টফোনের স্ট্ক্রিনে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন থাকতে পারে। অধ্যাপক লুকাস বলেন, 'এই গবেষণার ফলাফল এক অর্থে দারুণ। কারণ এ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, সায়ান রঙ পরিবর্তন না করে শুধু এই রঙ থেকে বিচ্ছুরিত আলোর সংবেদনশীলতা বা লাইট এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমরা কতটা ঘুম-ঘুম বোধ করব।' যেসব পরিবারের কিশোর-কিশোরীরা রাতের বেলা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, এ গবেষণা তাদের সাহায্য করতে পারে।

-প্রদীপ সাহা, সূত্র :বিবিসি