গামা রশ্মি বিস্ফোরণের ধাক্কা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

গামা রশ্মি বিস্ফোরণের ধাক্কা

শিল্পীর চোখে দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষের দৃশ্য। সংক্ষিপ্ত গামা রশ্মি বিস্ম্ফারণ। ১৯৬০ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে যে গামা রশ্মি বিস্ম্ফোরণের চিহ্ন আবিস্কৃত হয়েছিল, তার উৎস ছিল পৃথিবীতে বিস্ম্ফোরিত হাইড্রোজেন বোমা। সূর্যের চেয়ে মিলিয়িন ট্রিলিয়ন গুণ তীব্র-ছবি: বিবিসি

গবেষকরা পৃথিবীতে মধ্যযুগব্যাপী গামা রশ্মি বিস্ম্ফোরণের তীব্র আঁচের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। এটা সুদূর মহাশূন্যে কোনো বিস্ম্ফোরণ থেকে নির্গত হয়ে ছুটে এসেছে। হাজার আলোকবর্ষে সংঘটিত না-হয়ে শত আলোকবর্ষে হলে নাকি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত। এতদিন বিতর্ক থাকলেও বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটো কৃষ্ণবিবরের পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ বিশাল পরিমাণে গামা রশ্মি শক্তিমুক্ত করেছিল। তারই আঘাতের চিহ্ন বিভিন্ন উদ্ভিদে আমরা দেখি। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে তা জানা গেছে। তার মানে হচ্ছে শুধু ধূমকেতুর নয়, নানারকম মহাজাগতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকে পৃথিবী

অস্টম শতকে মারাত্মক গামা রশ্মি বিস্ম্ফোরণের ধাক্কা পৃথিবীতে এসে লেগেছিল। এটা নাকি মিল্ক্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে শক্তিশালী গামা রশ্মি বিস্ম্ফোরণের একটি। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরের দুটো নিউট্রন নক্ষত্রের পারস্পরিক সংঘর্ষকে দায়ী করেছেন। এতে বিপুল পরিমাণে গামা রশ্মি মুক্ত হয়েছিল। সেই আঘাতের চিহ্ন বিভিন্ন উদ্ভিদ ও বরফের মধ্যে রয়ে গেছে। গামা রশ্মি হচ্ছে, দৃশ্যমান আলোর মতো এক ধরনের বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ। তবে কম্পনাঙ্ক হার ১০ হাজার গুণ বেশি, যা ১০ ফুট কংক্রিটের দেয়াল ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের গামা রশ্মির চিহ্ন পরমাণু বা হাইড্রোজেন বোমা বিস্ম্ফোরণে লক্ষ্য করা যায়। এই রশ্মি বিস্ম্ফোরণের উৎসের ওপর একটি প্রতিবেদন রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক জার্নালের এক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, গামা রশ্মি বিস্ম্ফোরণের চিহ্ন ১৯৬০ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে আবিস্কৃত হয়েছিল। এই বিস্ম্ফোরণের উৎস ছিল পৃথিবীতে বিস্ম্ফোরিত নিউক্লিয়ার বোমা এবং সূর্যের চেয়ে মিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ তীব্র।

প্রকৃতিতে রেখে যাওয়া চিহ্ন মধ্যযুগে গামা রশ্মির তীব্র আঁচের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে উদ্ভিদ ও বরফে। এটা ২০১২ সালে গবেষকরা জানতে পারেন। এ ব্যাপারে জাপানের প্রাচীন সিডার গাছের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। সেখানে আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় কার্বন ১৪ (কার্বন মৌলের একটি ধরন) এর অস্বাভাবিক মাত্রা লক্ষ্য করেছেন। অ্যান্টার্টিকার বরফেও এ ধরনের তেজস্ট্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করা গেছে। তবে তা আইসোটপ তেজস্ক্রিয় বেরিলিয়াম ১০ (বেরিলিয়াম মৌলিক পদার্থের একটি ধরন) এর। আবহমণ্ডলের ওপরের অংশে নাইট্রোজেন পরমাণুতে তীব্র বিকিরণের আঘাতে এ ধরনের আইসটোপের সৃষ্টি হয়। ৩ থেকে ১২ হাজার বছরের দীর্ঘপথ অতিক্রম করে এই শ্যামল পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল।

-আসিফ