শুক্র গ্রহের ভূত্বক কি সক্রিয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

বিজ্ঞানীরা একসময় বলত শুক্রগ্রহের আবহমণ্ডল ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব বসতির উপযোগী হলেও এর ভূ-ত্বক নরকসদৃশ এবং গ্রহটি ভূতাত্ত্বিকভাবে মৃত। সম্প্রতি গবেষণা অবশ্য শুক্রগ্রহ সম্পর্কে নতুনভাবে আলোকপাত করছে।

গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা শুক্রকে ভীষণভাবে জীবিত গ্রহ বলে স্বীকার করেছেন। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্র গ্রহের ল্যান্ডস্কেপ বা ভূ-চিত্র নিয়েও নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। শুক্র গ্রহের জন্য নতুন মিশন এনভিশন নিয়ে পরিকল্পনা করছে দ্য ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।

সূর্যের নিকটস্থ এই গ্রহটি আসলে একটি উত্তপ্ত গ্রহ। এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫শ' সেলসিয়াস। অবশ্য তাপমাত্রার জন্য এ গ্রহটি প্রাণশূন্য নয়। বরং এই গ্রহের উপরিতলের চাপও এতো বেশি যে, তা সহ্য করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর কোনো একটি মহাসমুদ্রে ৯০০ মিটার বা ২৭শ' ফুট পানির গভীরে একজন মানুষ যে চাপ অনুভব করবে, শুক্রের উপরিতলে সব সময়ই তেমন চাপ বিরাজমান।

এনভিশন প্রজেক্টের প্রধান গবেষক ড. রিচার্ড গেইল বলছেন, পৃথিবী ও শুক্র প্রায় একই রকম অবস্থায়। বলতে গেলে জমজ হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করেছিল।

সময় প্রবাহে পৃথিবী পেয়েছে অক্সিজেন, জীবন ও শীতল আবহাওয়া। আর শুক্র গ্রহ অবিরতভাবে কেবল উষ্ণ থেকে উষ্ণতর আর শুষ্ক হয়ে উঠেছে। এরকমই বলেছেন নাসার বিশেষজ্ঞ ড. গেইল। মঙ্গলের মতন শুক্রেও একসময় প্রাণের বিকাশের উপযোগী পরিস্থিতি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রগ্রহ তার পৃষ্ঠতলে অন্তত একশ' মিলিয়ন বা দশ কোটি বছর ধরে পানি রাখতে পারত বলে মনে করছেন ড. গেইল। তাছাড়া, বিলিয়ন বছর ধরে শুক্রের বুকে সাগর থাকাও সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এই পানি কোথায় গেল? শুক্র কী করে হারালো এত পানি? এটিই বিজ্ঞানীদের কাছে একটি জটিল ধাঁধাঁ হিসেবে রয়ে গেছে।

এর সমাধান করতে পারলে, শুক্রের নিয়তি বা অতীত থেকেই হয়তো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আঁচ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিগত ৫০ বছর ধরেই শুক্রের ইতিহাস সন্ধানের চেষ্টা চলছে। ৬০ থেকে ৮০'র দশক পর্যন্ত সোভিয়েতরা শুক্রকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে। শুক্রকে একটি টফি গ্রহ অর্থাৎ এর বাহ্যিক স্তরটি খুবই পাতলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই তত্ত্ব নিয়েও কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন শুক্রগ্রহের অনেক জায়গায় উপরের স্তরটি অনেক পুরু হতে পারে।

হপ্রবাহ ডেস্ক, বিবিসি