হীরায় মোড়া এক গ্রহ!

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

হীরার পাহাড়! হীরার সমুদ্র! শুধুই হীরা আছে যেখানে সেখানে। এত বড় হীরার খনির হদিস এর আগে মেলেনি মহাকাশে! আলো ঠিকরে বেরুচ্ছে। যেন কয়েক লাখ কোটি মেগাওয়াটের আলো! তিনটি পৃথিবীকে পাশাপাশি রাখলে তা যতটা আয়তনজুড়ে থাকে, ততটা জুড়ে রয়েছে ওই হীরার গ্রহটি। রাতের আকাশে খালি চোখেই ওরই উৎসস্থল নক্ষত্রকে আমরা দেখতে পারি। তবে দূরত্ব কম নয় ৪০ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল বেগে ছুটলেও ওখানে পৌঁছতে সময় লেগে যাবে ৪০ আলোকবর্ষ। মনে রাখতে হবে, আলোর গতিতে সেকেন্ডে ৫ বার ঘুরে আসা যায় পৃথিবী। ক্যান্সার নক্ষত্রপুঞ্জের ৫৫ ক্যানক্রিই নামে খুবই উত্তপ্ত নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে গ্রহটি। এ নক্ষত্রকে আবর্তন করছে মোট পাঁচটি গ্রহ। অবশ্যই হীরার খনির গ্রহটি ক্যানক্রিই ওই সৌরমণ্ডলের বাকি চারটি থেকে একেবারে আলাদা। কেননা, এটি হীরায় মোড়া পুরোটাই। ওই হীরার ওজন তিনটি পৃথিবীর সম্মিলিত ওজনের সমান, রাতের আকাশে যাকে আমরা ছাদে উঠে খালি চোখেই দেখতে পারি। ১৭.৯১৬-এর পর ২৭টা শূন্য বসালে যে সংখ্যা দাঁড়ায়, তত কিলোগ্রাম! এখন আমাদের এই গ্রহে এক ক্যারেট বা ০.২ গ্রাম ওজনের হীরার দাম কয়েক হাজার মার্কিন ডলার। তা হলে ওই গ্রহের দাম কত হতে পারে, আমরা অনুমান করতে পারি!

এ গ্রহটিকে ঘিরেই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক নিক্কু মধুসূদন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ কানানি লি'র সঙ্গে একটি যৌথ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন 'অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স'-এ। জ্যোতির্বিজ্ঞানী মধুসূদন তার ব্লগে জানিয়েছেন, সৌরজগতের বাইরে থাকা ওই সুপার আর্থ গ্রহের এক-তৃতীয়াংশই হীরায় মোড়া। তার পিঠটাও মোড়া রয়েছে হীরা আর গ্রাফাইটে। এই গ্রাফাইট দিয়ে বানানো হয় আমাদের লেখার পেন্সিলের শিস।

এ ব্যাপারে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুজন সেনগুপ্ত বলেছেন, 'এই সদ্য আবিস্কৃৃত ক্যানক্রিই গ্রহটি একটি পাথুরে গ্রহ। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহগুলোতে অক্সিজেন অণুর পরিমাণ কার্বন অণুর দ্বিগুণ। তাই ভূপৃষ্ঠে অক্সিজেনের যৌগ জল, কার্বনডাই-অক্সাইড আর সিলিকেট অক্সাইড পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। কিন্তু পরিস্থিতি এখানে সম্পূর্ণ উল্টো। এতে অক্সিজেনের চেয়ে কার্বন বেশি হয়ে গিয়েছিল। ফলে ওই নক্ষত্রকে বলা হয় কার্বন নক্ষত্র। আর আবর্তন করা গ্রহগুলোকে বলা হয় কার্বন প্লানেট। প্রচণ্ড তাপ আর চাপে ওই কার্বন পরমাণুগুলোই হীরার কেলাস তৈরি করেছিল। এভাবেই গড়ে ওঠে হীরার গ্রহ বা ডায়মন্ড প্লানেট। তাপ ও চাপ অত্যন্ত বেশি হলে পৃথিবীরও পিঠের ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার নিচে হীরা জন্মে। অগ্ন্যুৎপাতে নিচ থেকে সেই হীরা আমাদের ভূপৃষ্ঠের ওপরে উঠে আসে। এটাই আমাদের প্রাকৃতিক হীরা। কিন্তু তাপ ও চাপ দুই-ই পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি বলে হীরার গ্রহ ক্যানক্রিইতে হীরার উজ্জ্বলতা অনেক বেশি। হীরার গ্রহের পৃষ্ঠ তাপমাত্রা প্রায় ৩৯০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

হপ্রবাহ ডেস্ক, আনন্দবাজার, নাসা