গঙ্গাচড়ায় ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মেরিনা লাভলী, রংপুর

কালভার্টের সংযোগ সড়ক না থাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার পশ্চিম ইচলী গ্রামের ১০ হাজার মানুষ চলাচলে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে। ২০১৭ সালের বন্যায় সংযোগ সড়কটি তিস্তার পানির তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। স্কুল-কলেজে যাওয়া নিয়ে বিপদে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী। হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাওয়া নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। কোনো উপায় না পেয়ে এলাকাবাসী কালভার্টের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত করতে থাকে। তবে কিছু দিন যেতে না যেতেই তা অকেজো হয়ে পড়ে তা। সেই অবস্থা চলছে এখনও।

২০১৭ সালের বন্যায় চর শঙ্করদহ ও পশ্চিম ইচলী চরের বাঁধ ভেঙে নতুন একটি চ্যানেল দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়। এতে করে পুরনো শঙ্করদহ স্কুলের মাঠ ও একটি মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি জোড়া পুল ও পশ্চিম ইচলীর সঙ্গে সিরাজুল মার্কেট এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র রাস্তার কালভার্টের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাটি ভরাট করে মূল সড়কের সঙ্গে কালভার্টের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমে নতুন চ্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তা আবার পানিতে ভেসে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই গ্রামের কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর নিচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় পশ্চিম ইচলী গ্রামে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, ট্রাক্টর, ট্রাক কিছুই চলাচল করতে পারছে না। কৃষিপণ্য পরিবহন করতে না পেরে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন কৃষক। ভাড়ে বা ঝুড়িতে করে কৃষিপণ্য মূল সড়কে এনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পশ্চিম ইচলী গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের বন্যায় পশ্চিম ইচলী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ গ্রামে রাস্তা খালের মতো হয়ে গেছে। একমাত্র রাস্তায় কালভার্টটির সংযোগ সড়ক বন্যায় ভেসে যাওয়ায় চলাচল করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে এই গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা এই চরের মানুষের। আর রাতে কেউ অসুস্থ হলে কষ্টের শেষ থাকে না।



একই গ্রামের মজিবর মিয়া বলেন, এই চরে তামাক, আলু, ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ হয়। সংযোগ সড়ক না থাকায় ফসল বাজারে নেওয়া খুবই কঠিন হচ্ছে। তিস্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে তিস্তার নতুন চ্যানেলের পানি প্রবাহ বন্ধ করা খুবই জরুরি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী সমকালকে জানান, তিস্তার যেখান থেকে চ্যানেল বেরিয়েছে, সেই জায়গায় বাঁধ না দিলে সংযোগ সড়ক তৈরি করেও লাভ হবে না। বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।