চবিতে বৃক্ষবীজের সংগ্রহশালা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আবু সাঈম, চট্টগ্রাম ও সৌভাগ্য বড়ূয়া চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে প্রথমবারের মতো গড়ে তোলা হয়েছে বৃক্ষের বীজের সংগ্রহশালা। দেশের বিরল ও বিপন্নসহ বিভিন্ন প্রজাতির ২৭০টি গাছের বীজ রয়েছে এ সংগ্রহশালায়। চট্টগ্রাম, সিলেট, মধুপুর এবং পার্বত্য এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এসব বীজ। এর মাধ্যমে প্রজাতির সংরক্ষণ যেমন করা যাবে, তেমনি বীজ থেকে চারা উত্তোলনের মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকেও রক্ষা করা যাবে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে একটি ল্যাবে ২৭০ প্রজাতির গাছের বীজ সংগ্রহ, চিহ্নিত এবং সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ল্যাবে দেশের হারিয়ে যাওয়া গাছের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের পরিচিতিকরণ এবং বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এ সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি প্রকল্পের সহায়তায় গত জুন থেকে সিলেট, মধুপুর, কাপ্তাই এবং কক্সবাজার, হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক থেকে বীজগুলো সংগ্রহ করা হয়। ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনিক্যাল প্রজেক্টের (এনএটিপি) মাধ্যমে ল্যাবে ৫০০ প্রজাতির বৃক্ষের বীজ এবং চারা উত্তোলনপূর্বক সংগ্রহ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশর কোথাও এ ধরনের বীজের সংগ্রহশালা নেই। এর মাধ্যমে বৃক্ষের বীজের প্রজাতি যেমন সংরক্ষিত হবে, আবার চারা উৎপাদন করে তা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রজাতির ধারক রক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ল্যাবকে বৃক্ষের বীজের মিউজিয়াম করারও পরিকল্পনা রয়েছে।'

বীজ সংগ্রহশালায় রয়েছে কাজু বাদাম, মিরিয়াম, মেইলাম, কদি বারেলা, জিয়াল ভাদি, আম, জংলি আম, উড়ি আম, ভেলা, বেউলা, সিভিট, দেশি আমড়া, বিলাতি আমড়া, আটা, শরিফা, গান্ধী-গজারি, দেবদারু, ছাতিম, ছাতিয়ান, করমচা, ডাবুর, কুরুজ, আরাক্যারিয়া, দুধ কুরুচ, সাদা বাইন, কালা বাইন, মরিচা বাইন, সিতারা ফাল, বড়পাত্তা, থোনা, ধরমারা, পারুল, শিমুল, বন শিমুল, বর্মা শিমুল, বোহাল, বদ গোটা, ধূপ, শীলভাদী, ঘুটঘুুটিয়া, জাফরান, বিলাতি হলদি, রাজ অশোক, বন কাঞ্চন, কুরাল, কাইরাল, রক্ত কাঞ্চন, লাল সোনালু, রাধাচূড়া, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, হলুদ কৃষ্ণচূড়া, অশোক, দাদ মারদান, মিনজিরি, তেঁতুল, বরুণ, ঝাউ, সালকাচড়া, রঙ্গন, পুনাল, কামদেব, কাউ, তমাল, নাগেশ্বর, চৌকা, অর্জুন, বহেড়া, হরীতকী, হাতিয়াল, কাঠবাদাম, ইচড়ি, চন্দুল, চালতা, হাড়গোজা, বৈয়লাম, ধুইল্যা গর্জন, বাইট্যা গর্জন, তেলিয়া গর্জন, তেলসুর, শাল, বিলাতি গাব, দেশি গাব, জলপাই, কোকড়া, লটকন, কাজল ভাদি, কুমিয়া, গেওয়া, মেলগোলা, রাবার, বুড়া, সিন্দুরী, অরবড়ই, আমলকী, ভেরেণ্ডা, বিল্লা, হারমাই, পিটালি, পলাশ, শিষ্য, জামুরজা, পাইন্যা মাঁদও, পাহাড়ি মাদর, কেওরঙ, পাদৌক, লাল চন্দন, বসন্ত মঞ্জুরী, কালা বাটনা, তাল বাটনা, কান্তা বাটনা, সাদা বাটনা, পাইন্যাগুলা, কার্পূর, ছালমুগড়া, হাদিগাছ, মেন্দা, নাগেশ্বর, ঝুমকা ভাদি, দারুচিনি, তেজ বহু, কাঞ্চন, হিজল, সিধা জারুল, পাইন্যা জারুল, ওরা, জারুল, বর্ষা, চম্পা, বিটলী চম্পা, পিটরাজ, লালী, নিম, ছিকরাশী, রাতা, লম্বু, গোড়া নিম, বড় মেহগনি, মেহগনি, তুন, আটালিগুলা, ধুন্দল, পশুর, আকাশমণি, খয়ের, রিতা, গুয়া বাবলা, হাইব্রিড আচাকিয়া, ম্যানজিয়াম, বাবলা, রক্তচন্দন, চাকুয়া কড়ই, শিল কড়ই, তেতুয়া কড়ই, সাদা কড়ই, রাজ কড়ই, গিলালটা, ইপিল, মালঞ্চ কড়ই, রেইনট্রি, চাপলাইশ, কাঁঠাল, বর্তা, ওয়াইল্ড জ্যাক, ডুমুর, পানিডুমুর, বট, ইন্ডিয়ান রাবার ট্রি, অশ্বথ, যজ্ঞডুমুর, তাত, আমবারেলা, খলশী, বটলব্রাশ, ইউক্যালিপটাস, পাতি জাম, ম্যালালিউকা, কালো জাম, পাইন্যা জাম, ঢাকি জাম, জাম্বুরা, জামরুল, বেলাম্বু, কামরাঙ্গা, জাইপাতা, দেশি বরই, বরই, জংলি বরই, কানক্রারা, গরান, ভোরা, হালদো, মানিপাল, ফুল কদম, পুতি কদম, ডাকরুম, কানারি, ভুতুম, কদম, বক্স বাদাম, কদবেল, বাজনা, বেল, জাম্বুরা, লিচু, আঁশফল, রিতা, কুসুম, তালি, বনলিচু, মহুয়া, খিরনি, বকুল, সফেদা, কালো ধুতুরা, শ্বেতচন্দন, বাঁদরহুলা, নোনা কেওড়া, উলটকম্বল, উদাল, সুন্দরি, মুসকান্দা, লানা আসার, বোদ্ধা নারকেল, জংলি বাদাম, সাম্পান, রাইফল, ফাইয়া উডাল, নোনাঝাউ, কানাক, চা, আগর, মোস, গামার, টেক, আরশল, গোদা, সুপারি, চিনি তাল, পিসতেল পাম, চৌগোটা, নারিকেল, অয়েল পাম, হেনতাল, দেশি খেজুর, রয়েল পাম, গোলপাতা, খেজুরগাছের বীজসহ অন্যান্য গাছের বীজ।

এসব বীজ নিয়ে গবেষণা করছেন বন ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আকতার। চতুর্থ বর্ষের একাডেমিক কোর্সের প্রজেক্টের অংশ হিসেবে বিভিন্ন

প্রজাতির বীজ নিয়ে এই কাজ করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমাদের ইনস্টিটিউটের বীজ সংগ্রহশালা খুবই সমৃদ্ধ। এ সংগ্রহশালায় থাকা বীজ নিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি। একাডেমিক কোর্সের অংশ হিসেবে আমি ২৭০ দেশি প্রজাতির বৃক্ষের বীজ নিয়ে কাজ করছি। আমার মূল গবেষণা হলো- এসব প্রজাতির বীজের বৈশিষ্ট্য কেমন তা নির্ধারণ করা। কোন পরিবেশে এবং কোন মাটিতে বীজগুলো বপন করলে বীজটি সুস্থ সবল গাছ হয়ে বেড়ে উঠবে, সেটিও নির্ণয় করছি। অন্যদিকে বীজগুলো থেকে কবে নাগাদ ফল এবং ফুল আসবে ও ফল পাড়ার উৎকৃষ্ট সময় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি। এ গবেষণার পর ২৭০ প্রজাতির বীজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেব আমি, যেটিতে সবকিছুর সচিত্র বর্ণনা থাকবে।'