বাস দাঁড়ায় না বাসের জায়গায়

রাজধানীতে নতুন ১৩০ স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অমিতোষ পাল

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাজধানীতে ১৩০টি বাস স্টপেজ নির্মাণ করতে বলা হয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে। নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো নির্মাণ করা হলেও স্টপেজগুলোতে বলতে গেলে কোনো বাসই দাঁড়ায় না। বরং আগের মতোই চালকরা ইচ্ছামতো রাস্তার ওপর বা রাস্তার সংযোগস্থলে গাড়ি পার্ক করে যাত্রী ওঠানামা করছে। ফলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বিষয়টি জানিয়ে ট্রাফিক পুলিশ, পরিবহন মালিক সমিতি ও বিআরটিএকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৃথক দুটি চিঠি দেন। এতে জানানো হয়, স্টপেজ নির্মাণের জন্য দক্ষিণ ও উত্তর উভয় সিটির ৭০টি করে মোট ১৪০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ থেকে চিহ্নিত এই ১৪০টি স্থানের কথা উভয় সিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ১৩০টি বাস স্টপেজ নির্মাণের পাশাপাশি ৩৮টি যাত্রী ছাউনিও নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ১২টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন।

সরেজমিন বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি সংলগ্ন স্থানে নির্মিত পূর্ব পাশের বাস স্টপেজে গিয়ে দেখা যায়, স্টপেজের বদলে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের আগে সিগন্যালে ও মোড়ে থেমে বাসগুলোতে যাত্রী তুলছে হেলপাররা। বাস স্টপেজ যেখানে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে দুই-একজন যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। তবে বেশিরভাগ বাসই সেখানে থামছে না। আবার মোড় থেকে যাত্রী তোলার পরও বাস ফাঁকা থাকায় স্টপেজেও দাঁড়াচ্ছে বাসগুলো। একই অবস্থা দেখা গেছে, মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন বাস স্টপেজে। অবশ্য কখনও কখনও ট্রাফিক পুলিশ তদারকি করে মোড়ে বাস দাঁড়ানো নিয়ন্ত্রণ করছে।

শাহবাগে ঢাকা ক্লাব সংলগ্ন বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কিছু যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাস দাঁড়াচ্ছে না। বাস স্টপেজে দাঁড়ানো যাত্রী মিল্টন ইসলাম বলেন, বাসগুলো শাহবাগ মোড় থেকেই যাত্রী ভরে ফেলে। এ জন্য স্টপেজের যাত্রীর দিকে তাদের নজর থাকে না। এ কারণে যাত্রীরাও ছাউনিতে না দাঁড়িয়ে মোড়েই দাঁড়িয়ে থাকেন। কারণ মোড়েই বাস থামে। অথচ মোড়ে বাস থামার কারণে সব সময় যানজট লেগে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট-মিরপুর রুটে চলাচলকারী বিহঙ্গ পরিবহনের এক চালক বলেন, বাস স্টপেজে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু যেখানে যাত্রী পাই, সেখান থেকেই তুলি। তা ছাড়া সবাই মোড়েই দাঁড়িয়ে থাকে। আর স্টপেজের স্থানগুলোতে জায়গাও কম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাস স্টপেজ ও যাত্রীছাউনি নির্মাণ করে দিলেও পরিবহন চালকরা সেগুলোতে থামছে না। আমাদের দায়িত্ব এগুলো নির্মাণ করে দেওয়া। কিন্তু বাসগুলো যাতে স্টপেজেই থামে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাস মালিক-চালক, বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস স্টপেজ থেকেই যাত্রী ওঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকরের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব চালক আইন অমান্য করছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলার জন্য শর্ত হচ্ছে, বাস মালিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানো। তাদের শৃঙ্খলায় না এনে যতই আধুনিক বাস স্টপেজ কিংবা যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হোক; কোনো কাজে আসবে না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, তারা নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা না করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া, চুক্তি বা টার্গেটভিত্তিক কোনো পরিবহন চালানো যাবে না। পরিবহন চালানোর সময় দরজা বন্ধ রাখতে হবে। প্রতি মাসে

চালক ও হেলপারদের সঙ্গে মালিকদের মতবিনিময় করতে হবে। যারা এসব করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।