ভারতে কেন ফুঁসে উঠছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬      

সমকাল ডেস্ক

দিলি্লতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের নেতা কানহাইয়া কুমারকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকে ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। হাজার হাজার শিক্ষার্থী কয়েক দফা বিক্ষোভে উত্তাল করেছে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে দিলি্লর সাধারণ মানুষ। তারা কানহাইয়ার মুক্তি দাবি করেছে। আন্দোলনরত এসব শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভ প্রবল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে নতুন করে চাঙ্গা হচ্ছে বিরোধী দলগুলো। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে ভারতের আসন্ন বাজেট অধিবেশনও ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। বিরোধীদের চাপের মুখে মোদি সরকারের বহু কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পণ্য ও সেবা করের (জিএসটি) মতো জরুরি বিল এ দফায়ও আটকে যেতে পারে সংসদে। কানহাইয়ার গ্রেফতারের ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষও বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং বিরোধী দল কংগ্রেস এ ঘটনাকে মোদি সরকারের দেশের ভেতরে বিরোধী মত দমনের অপচেষ্টার জ্বলন্ত উদাহরণ বলে মনে করছে। ২০১৩ সালে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আফজল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা গত সপ্তাহে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশের পরই কানহাইয়াকে (২৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। ভারতের সংসদ ভবনে ২০০১ সালে হামলা চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় আফজল গুরুকে। ওই হামলায় ১০ জন নিহত হয় এবং পাকিস্তানভিত্তিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়। তবে আফজল গুরুর ওই বিচার প্রক্রিয়া অনেক ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হয়ে আসছে। খবর : এনডিটিভি, ফাস্ট পোস্ট।
বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে, গত সপ্তাহের ওই সমাবেশে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে তারা শুনতে পেয়েছে। পাশাপাশি কানহাইয়ার বক্তৃতার একটি মোবাইল ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর দুই শিবিরে এ নিয়ে বিরোধ আরও তুঙ্গে ওঠে। কানহাইয়া দাবি করেছেন, এবিভিপি ও বিজেপিরই ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এই মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তিনি সমাবেশে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেননি। অবশ্য ওই ভিডিওটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্পাদনা করে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি অনলাইন থেকে মুছে ফেলা হয়। আসলে ঘটনার শুরু হায়দরাবাদ থেকে। পূর্বঘোষিত ফেলোশিপ বাতিল করায় আত্মহননের পথ বেছে নেন দলিত সম্প্রদায়ের অসহায় শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলা। রোহিতের এই দুঃখজনক পরিণতি সবাইকে দেখিয়ে দেয়_ ভারতের বশ্ববিদ্যালয়গুলোই দলিতদের স্বপ্নের মৃত্যুকূপ হয়ে উঠেছে। এর পরই জেগে ওঠে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অহিষ্ণুতা ও জাতপাতবিরোধী বিক্ষোভ শক্তিশালী হতে থাকে। বাধ্য হয়ে মাঠে নামে বিজেপির মদদপুষ্ট ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। তারা অভিযোগ করে, রোহিত ও তার সতীর্থরা এক সময় ডানপন্থি ছাত্রকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু সে দফা এবিভিপির অভিযোগ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ও হেরে যায়। সবাই অভিযোগ করে, ডানপন্থি এই সংগঠনটির কারণেই একের পর এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। দিলি্লসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে। এর জের ধরেই পরবর্তীকালে গ্রেফতার হলেন কানহাইয়া। তার গ্রেফতারের ঘটনা সামনে এনে আপাতত রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যাকে ধামাচাপা দেওয়া গেছে। কিন্তু কানহাইয়াকে দেশদ্রোহী প্রতীয়মান করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুরো বিষয়টি আবার সামনে চলে আসবে। আর বিজেপি সরকারের ওপর বিরোধীদের চাপ বাড়বে।