নিষেধাজ্ঞায় কাজ হবে কি

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬      

সমকাল ডেস্ক

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা ও মহাকাশে রকেট প্রেরণের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে একগুচ্ছ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ নিষেধাজ্ঞা কি কোনো সুফল বয়ে আনবে?
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রচালিত সংবাদ সংস্থা কেসিএন মনে করে, এ নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ দেশটির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে আরও সংহত হয়েছে। তাছাড়া পরমাণু পরীক্ষার ফলে দেশটির সার্বভৌম ক্ষমতাও দিন দিন জোরদার হচ্ছে। তবে সত্য হচ্ছে, পূর্বের নিষেধাজ্ঞার ফলে সীমিত সম্পদ সম্পন্ন দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও তথৈবচ। প্রায় সব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং ত্রাণ সংস্থাই দেশটির প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। দেশটিতে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাপন আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তাহলে বিশ্বের প্রভাবশালীদের চাপ এড়িয়ে কীভাবে তা সামাল দেবে দেশটি? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো জনাথন পোলক বলেন, চীনের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। তহবিল পাচ্ছে পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট কর্মসূচি চালানোর। সংহত থাকছে কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ অভিজাত মহলের। তবে চীনের সহযোগিতা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট না হলেও পিয়ংইয়ংকে ঠিকই নিষেধাজ্ঞার চাপ সামলে টিকে থাকতে সহযোগিতা করবে। তবে পশ্চিমাদের জন্য আশার কথা, চীন উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে শুরু করেছে। তবে উত্তর কোরিয়াকে কাবু করতে এই চাপ এখনও যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।
গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হলো। সম্প্রতি চতুর্থ দফা পরমাণু বোম পরীক্ষার পর দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ করে পিয়ংইয়ং। এর পরই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। মনে করা হয়, রকেট উৎক্ষেপণের আড়ালে আসলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে তারা। গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে সহজেই বিলটি পাস হয়। নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার আর্থিক খাতগুলো বন্ধ করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে দেশটি ছোট আকারের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ওয়ারহেড না বানাতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আলোচনা করছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় দেশটির সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত যে কোনো লেনদেন জব্দ করতে পারবে। এ ছাড়া বিলে উত্তর কোরিয়ায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচি এবং রেডিও সম্প্রচার কার্যক্রম চালু করতে পাঁচ কোটি ডলার সাহায্যের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও রকেট উৎক্ষেপণের ঘোষণা :মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আরও রকেট উৎক্ষেপণের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন। কিম জং-উনের এ ঘোষণার খবর প্রচার করেছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। কিম বলেন, নিজেদের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের মহাশূন্য জয় করতে হবে।