কয়েদি নম্বর ১০৬

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

সমকাল ডেস্ক

রূপালি পর্দায় কখনও জেলবন্দির অভিনয় করেছেন কি-না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বাস্তব জীবনে জেলবন্দি হতে হলো বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে। ২০ বছর আগে হরিণ মেরে জেলবন্দি হলেন সল্লু। পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। যোধপুরের সেন্ট্রাল জেলে তিনি কয়েদি নম্বর ১০৬।

কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলায় ৫ বছর কারাদণ্ড পাওয়া সালমান খান জামিন পাননি। গতকাল শুক্রবার নির্ধারিত শুনানির পর আজ শনিবারও জামিন বিষয়ে শুনানির আদেশ দেন আদালত। তাই গতকাল রাতটাও জেলে কাটাতে হয়েছে এই বলিউড সুপারস্টারকে। গত বৃহস্পতিবার রাজস্থানের যোধপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় দুই দিন জেলে কাটাতে হলো তাকে। খবর এনডিটিভির।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সালমানকে রাখা হয়েছে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর পাশের সেলে। জেলে তিনি ১০৬ নম্বর কয়েদি। রাতে তাকে অন্য সাধারণ বন্দীদের মতোই ছোলার ডাল আর রুটি খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু সালমান তা খাননি। শোয়ার জন্য তাকে ৪টি কম্বল দেওয়া হয়। জেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে মেঝেতেই শুয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালেও ওই কারাগারে পাঁচ রাত কাটাতে হয়েছিল সালমানকে।

১৯৯৮ সালে যোধপুরের কোঙ্কনি গ্রামে কৃষ্ণসার হরিণ মারার অভিযোগ চারটি মামলা হয়েছিল সালমান খানের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগে ওই বছরের ১৭ অক্টোবর তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। কিন্তু তিনটি মামলায় সালমান খালাস পান। এর মধ্যে দুটি মামলায় ২০০৬ সালে সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদ দেন বিচারিক আদালত। কিন্তু রাজস্থান হাই কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করে ২০১৬ সালে সালমানকে খালামের আদেশ দেন। হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হরিণ মারার অভিযোগে আরেকটি মামলা থেকে গতবছর তাকে খালাস দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার রায় হওয়া চতুর্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল কোঙ্কনি গ্রামের বিশনই উপজাতিদের পক্ষ থেকে। কারণ কৃষ্ণসার হরিণ তাদের কাছে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত।

আইন ভঙ্গ করার দায়ে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত হয়েছেন এই বলিউড তারকা। শুধু বিরল প্রজাতির হরিণ শিকারই নয়, ২০০২ এ মুম্বাইয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় ফুটপাতে শুয়ে থাকা চারজনকে আহত করেন।