প্রকাশনা শিল্প নিজের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল বুক সেন্টার বা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। এটা পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত। শুধু তাই নয়, ইউনেস্কোর লিস্টেড। বই বা প্রকাশনা নিয়ে সব কাজ তাদেরই করার কথা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান একেবারেই অকার্যকর হয়ে আছে। প্রকাশনা শিল্প একা একা বেড়ে উঠতে পারে না, তার জন্য একটা আয়োজন দরকার। যা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের করার কথা। কিন্তু সেটি একেবারেই হচ্ছে না। যেটুকু হচ্ছে প্রকাশকদের নিজ উদ্যোগে।

অনুপম প্রকাশনী ৪০ বছরে পড়েছে। আমরা চার দশক পূর্তি উৎসব করেছি, কেউ জিজ্ঞেসও করে না কী কাজ করলাম। অন্যদিকে বই এবং প্রকাশনা নিয়ে আমাদের গ্রন্থনীতি করা হয়েছে। ২০ বছর হয়ে গেছে এই নীতিরও কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এই নীতির একটিও যদি বাস্তবায়ন হতো তবে এই শিল্পে অনেক সুবাতাস বইতো। এত সমস্যার মধ্যে একটি ভালো দিক হলো, উন্নতি হয়েছে বইমেলার। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ডিজিটাল নানা প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বই পৌঁছে যাচ্ছে সারা বাংলাদেশে। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা'। বর্তমানে এটাই পৃথিবীর দীর্ঘতম বইমেলা। মাসব্যাপী বইমেলা পৃথিবীর কোথাও হয় না। সারা বছর বই প্রকাশ বা বই কেনার তেমন কোনো হিড়িক দেখা যায় না। তবে মাসব্যাপী যে উন্মাদনা হয়, এটাও কোনো অংশে কম নয়। প্রকাশনা যদি একটি কাঠামোতে দাঁড়াত, তবে রাষ্ট্রই অনেক বেশি লাভবান হতো। এটা সমন্বয় করার কাজ করবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। প্রকাশনা শিল্পটি দাঁড়িয়ে আছে লেখক এবং পাঠকদের জন্যই। কোনো প্রকাশকই মানহীন বই বাজারে আনতে চান না। তবে একটি বইকে মানসম্মত করার জন্য যে সময় দরকার, আমরা ততটুকু সময় পাই না। এ জন্য লেখকদের সহযোগী হতে হবে। পাণ্ডুলিপি পাঠযোগ্য করার প্রয়োজনে সময় দিতে হবে। শেষ সময়ে পাণ্ডুলিপি আসায় ভুল থেকে যায়। মানহীন বই কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়। আমরা সারা বছরই নতুন বই করতে চাই। তবে এর জন্য বড় ভূমিকা পালন করে প্রচার। বইমেলাতে বা এ সময়ে সব মিডিয়া বইয়ের প্রচার করে। সমকাল সারা বছর কালের খেয়ার মাধ্যমে বই বা লেখকদের প্রচার করে। অন্য জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে এমন আয়োজন দেখা যায় না। ফলে লেখকরাও পাণ্ডুলিপি প্রকাশের সঠিক সময় ধরেন ফেব্রুয়ারি। কাগজের বইয়ের চাহিদা কখনই কমবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল রূপ থেকে আবার তারা কাগজের বইয়ে ফিরে এসেছে। কাগজের বই পড়ার আনন্দ আলাদা। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে আমরা স্বাগত জানাই।

বইয়ের দাম নির্ভর করে উৎপাদন খরচের ওপর। বড়দের বইয়ের তুলনায় ছোটদের বইয়ে খরচ বেশি। তাই শিশুতোষ বইয়ের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। আমাদের বইমেলায় ২৫ শতাংশ মূল্যছাড় থাকে। কিন্তু কলকাতা বইমেলায় মাত্র ১০ শতাংশ মূল্যছাড় পান ক্রেতারা। এবারের মেলায় আমাদের ৪০টি নতুন বই আসছে। মেলার অষ্টম দিনে ৩৪টি বই চলে আসছে। ১৫ দিনের মধ্যে বাকি বই চলে আসছে। আমার প্রকাশনী থেকে আসা উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- দর্শন ও শিল্প ভাবনা, নজরুল সঙ্গীতের নানা অনুষঙ্গ, জীবনের গাণিতিক রহস্য এবং বিজ্ঞান অভিধান।

হস্বত্বাধিকারী, অনুপম প্রকাশনী

মন্তব্য করুন