পাঠক, লেখক আর দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বাড়ছে বই বিকিকিনি। এবার মেলার পরিসর ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেকে। এরই মধ্যে মেলার সব চত্বর জমে উঠলেও তার উল্টো লিটলম্যাগ চত্বরে। মেলার অন্যান্য দিক যতই আধুনিক হচ্ছে, লিটলম্যাগ ততই পিছিয়ে পড়ছে। লিটল ম্যাগাজিনের লেখক, সম্পাদক নিজেই প্রকাশকের ভূমিকা পালন করেন। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা বা ব্যক্তি উদ্যোগে লিটল ম্যাগাজিন বের করা হয়। ৫০০ টাকা দিয়ে বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বহেড়াতলায় উঠতি লেখক ও প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাঠকের ভিড় ও বিক্রি কম হওয়ায় বইমেলার এদিকটা অনেকটা উপেক্ষিতই বলা যায়। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, এখনও অনেক স্টল খোলেনি, আবার কারও কারও নেই ব্যানার। এবার লিটলম্যাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩০টি স্টল। ফলে আগের চেয়ে অনেক ঘিঞ্জি হয়েছে জায়গাটি। স্টলের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে নেই কোনো আড্ডার জায়গা। স্টল ঘুরে দেখা যায় সেখানে আছে বিভিন্ন প্রকাশনীর ও শিশুদের বই। লিটলম্যাগ 'লোকের' সম্পাদক অনিকেত শামীম বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল, বাছাইকৃত লিটলম্যাগ সম্পাদককে মেলার কমিটিতে রাখতে। এতে আজেবাজে পত্রিকা এখানে স্থান পাওয়ার সুযোগ পেত না। কলকাতার মেলায় লিটলম্যাগকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে নেই লিটলম্যাগের ফি-ও। অথচ আমরা ফি দিয়েও তেমন সুবিধা পাই না! পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর কর্মকর্তা তুষার প্রসূন বলেন, অল্প টাকায় স্টল বরাদ্দ নেওয়ায় এই চত্বরে স্টল নির্মাণের কাজ শেষ হয় দেরিতে। 'প্রকাশ' সম্পাদক শফিক হাসান জানান, লিটলম্যাগের বিক্রি সারা বছর হয় না, মেলাতেই যা কিছু হয়। তাই সম্পাদকরা মেলাকেই টার্গেট করে পত্রিকা প্রকাশ করেন। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ড. আমিনুর রহমান সুলতান বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি লিটলম্যাগ চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যেতে। কিন্তু লিটলম্যাগ কর্মীদের অনীহার কারণেই পারিনি। তাহলে এ পরিবেশের সৃষ্টি হতো না। মেলা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা থাকে দেশের আনাচে-কানাচের সব পত্রিকাকে সুযোগ দিতে। সে কারণেই সংখ্যা বেড়ে যায়। আগামীতে আরও যাচাই-বাছাই করে দেওয়া হবে।



লেখা : তৌহিদুল ইসলাম তুষার

মন্তব্য করুন