উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৬      

দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উগ্রবাদ। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে হচ্ছে একের পর এক জঙ্গি হামলা। এই উগ্রতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ এক নীরব প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রাশিদুল বারী। উগ্রতার বিরুদ্ধে নিয়মিত নিবন্ধ লিখছেন হাফিংটন পোস্ট,

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ

আমেরিকার হোয়াইট হাউসের সামনে উগ্রতার বিরুদ্ধে রাশিদুল বারীর প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। আমেরিকার টুইন টাওয়ারের ৯৫তম তলায় কাজ করছিলেন রাশিদুল বারীর ভাই রাকিবুল বারী। এ দিন আল কায়দা আঘাত হানে টুইন টাওয়ার এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। আশপাশের অনেকে মারা যান। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও কিছু দিন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন রাকিবুল বারী। ভাইয়ের আহত হওয়া ভাবিয়ে তুলে প্রবাসী বাংলাদেশি ছোট ভাই রাশিদুল বারীকে। নিজে যুক্তরাষ্ট্রের লা গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজে কাজ করেন। এক সময় শিক্ষার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। উগ্রতা বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করেন বিভিন্ন পত্রিকায়। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য দৈনিক হাফিংটন পোস্টে তার প্রবন্ধ ছাপা হতে থাকে।
শুধু লেখালেখিতেই সীমাবদ্ধ রাখলেন না এই আন্দোলন। উগ্রতার বিরুদ্ধে এক সময় শুরু করলেন নীরবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন। পৃথিবীর যে প্রান্তেই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটুক, এর প্রতিবাদে চলতে থাকে রাশিদুল বারীর প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থল এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে শান্তির বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি।

কাজগুলো সম্পন্ন করেন বারী সায়েন্স ল্যাব নামে নিজের তৈরি করা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিসান হোটেলে সন্ত্রাসীদের হামলার সময় রাশিদুল বারী ছিলেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে। সেখানে তার ছেলেকে গণিতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। লাইব্রেরিতে সিএনএন ছাড়া আর কোনো চ্যানেল দেখানো হয় না। লাইব্রেরিতে ছেলেকে অঙ্ক করানোর সময় নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৩টায় সিএনএনে দেখতে পান, ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে জঙ্গিরা আক্রমণ করেছে। বেশ কিছু বিদেশিকে তারা জিম্মি করেছে। ঘটনা দেখে মাথায় হাত দেন রাশিদুল বারী। অন্যের জন্মভূমিতে উগ্রতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। এবার নিজের জন্মভূমিতে ঘটল! ছেলেকে নিয়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে এলেন। বাসায় গিয়ে 'প্রে ফর বাংলাদেশ' শিরোনামে প্ল্যাকার্ড তৈরি করলেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গে। লেহম্যান কলেজে এ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাশিদুল বারী। বক্তব্য শেষ করে বাসায় ফিরে গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধে তুলে ধরেন হামলাকারীরা অল্প সংখ্যক। বাংলাদেশের প্রায় সকলে এ হামলার বিরুদ্ধে। বিদেশিদের প্রতি বাংলাদেশিদের আতিথেয়তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও ছিল সে প্রবন্ধে। প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় হাফিংটন পোস্টে।
উগ্রতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসা রাশিদুল বারী এক সময় দারিদ্র্যকে বিশ্বের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতেন। নিজের পড়াশোনা এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি দারিদ্র্যের ওপর গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও কাজ করেছেন। দারিদ্র্য ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে দশটি বই লিখেছেন। উগ্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা মানুষ খুনের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করলে তিনি উগ্রতাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেন এখন। এটি নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। রাশিদুল বারী জানান, 'এক সময় দারিদ্র্যকে বিশ্বের প্রধান সমস্যা মনে করতাম। কিন্তু উগ্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা মানুষ খুনের ঘটনা দেখে আমার চিন্তার পরিবর্তন ঘটে। কারণ এখানে মানুষ মানুষকে খুন করছে। দারিদ্র্যের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চেয়ে এ ক্ষতি বহুগুণ বেশি। তাই উগ্রতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে লেখালেখি ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে আসছি।'
বর্তমানে রাশিদুল বারী হাফিংটন পোস্ট এবং টাইমস অব ইন্ডিয়াতে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী যে কোনো সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে আসছেন। ইসলামিক স্টেট, তালেবান সমস্যা, মালালার ওপর হামলা, এমনকি বাংলাদেশে রাজন ও তনু হত্যার প্রতিবাদেও তিনি প্ল্যাকার্ড ধরেছেন। কলাম লিখেছেন। বিভিন্ন স্থানে লেকচার দিয়েছেন। শর্ট ফিল্ম বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছেন।
লেখালেখির পাশাপাশি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কারণ হিসেবে রাশিদুল বারী জানান, 'আমি দুই ধরনের প্রতিবাদ করে থাকি। পত্রিকায় লিখলে তা পাঠকরা পড়ে। উগ্রতার বিরুদ্ধে আমার মতামত সে পত্রিকার কল্যাণে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ উপলক্ষে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ করলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি সহজে প্রচারিত হয়।'
তার এ ধরনের প্রতিবাদে জনসাধারণ ব্যাপক সমর্থন দিচ্ছে। তার ফেসবুক পেজ বারী সায়েন্স ল্যাবে ইতিমধ্যে লক্ষাধিক লোক সমর্থন জানিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ তাকে মেইল করে এ কার্যক্রমের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
রাশিদুল বারী কাজ করছেন বিভিন্ন মানবিক ইস্যু নিয়ে। উগ্রতার বিরুদ্ধে তার লড়াই চলছে। প্রচুর সাড়া পেলেও মাঝে মাঝে হুমকিও পান। ই-মেইলে এবং মোবাইলে হুমকি পান মাঝেমধ্যে। হুমকি পেলেও থামছেন না তিনি। মানবিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে বড় করে দেখছেন।
মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা পাওয়া প্রসঙ্গে রাশিদুল বারী জানান, 'উগ্রতা সারা বিশ্বের সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সকলের ভূমিকা থাকা উচিত। মানুষ আমার কাজকে পছন্দ করায় আমি কৃতজ্ঞ। আশা করছি, আমরা সবাই মিলে এ সমস্যার মূলোৎপাটন করব।'

পরবর্তী খবর পড়ুন : এই ভালোবাসা অন্যরকম

এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনই বেদখলে

এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনই বেদখলে

প্রায় তিন দশক পর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু ...

ইটভাটায় আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বাড়ছে

ইটভাটায় আইন লঙ্ঘনের জরিমানা বাড়ছে

পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ইটভাটা নির্মাণ ও ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আইন ...

শাঁখারি কার্ত্তিকের 'বাড়ি' বাঁচানোই দায়

শাঁখারি কার্ত্তিকের 'বাড়ি' বাঁচানোই দায়

শাঁখারি কার্ত্তিক চন্দ্র সেন। বাড়ি ডেফলচড়া শাঁখারিপাড়া। পাবনার চাটমোহর উপজেলার ...

মন্ত্রিসভায় উঠছে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত আইন

মন্ত্রিসভায় উঠছে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত আইন

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন করছে সরকার। ...

নতুন নৌবাহিনী প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী

নতুন নৌবাহিনী প্রধান আওরঙ্গজেব চৌধুরী

নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন এ এম এম এম আওরঙ্গজেব ...

অন্যকে ফাঁসাতে গর্ভের সন্তানকে হত্যা!

অন্যকে ফাঁসাতে গর্ভের সন্তানকে হত্যা!

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ১ মাসের শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে ...

মাদ্রাসা শিক্ষকের একী কাণ্ড!

মাদ্রাসা শিক্ষকের একী কাণ্ড!

সিলেবাস দেওয়ার কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে অষ্টম শ্রেণি পড়ূয়া ...

ভুয়া ভোটে নির্বাচিতরা ভুয়া প্রতিনিধি: সেলিম

ভুয়া ভোটে নির্বাচিতরা ভুয়া প্রতিনিধি: সেলিম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম একাদশ জাতীয় ...