প্র চ্ছ দ

শূন্য হাতে এসেছিলাম, দর্শক আমাকে নায়করাজ বানিয়েছে :রাজ্জাক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭      

এ দেশের ঘরে ঘরে, প্রতিটি জনপদে প্রিয় এক নাম_ রাজ্জাক। বাংলা চলচ্চিত্রের অঘোষিত এক সম্র্রাট। কিন্তু গল্পের শুরুটা খুব মসৃণ ছিল না। ষাটের দশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুনে যখন পুড়ছিল এই উপমহাদেশের মানুষ, সেই উত্তাল সময়ে কলকাতা থেকে স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে এ

শীত শেষে খানিকটা তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। এমনি এক সন্ধ্যায় নায়করাজের বাসভবন গুলশানের লক্ষ্মী কুঞ্জে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এলেন। মুখে হাসি। জানতে চাইলাম, 'কেমন আছেন?'
আবেগজড়ানো কণ্ঠে নায়করাজ বললেন, 'আল্লাহর অশেষ রহমত আর মানুষের ভালোবাসায় ভালো আছি। এক জীবনে অনেক পেয়েছি। হয়তো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। বাকি জীবনটাও এই ভালোবাসা ও সম্মান নিয়েই থাকতে চাই।'
'দেখতে দেখতে ছিয়াত্তরে পা রাখলেন- কেমন লাগছে?'
একটু দম নিলেন নায়করাজ। তারপর বললেন, 'সেই ৬৪ সালে এলাম। আজ ২০১৭। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কষ্ট করেছি। বললে হয়তো বিশ্বাস করবে না। তারপর আজকের এই অবস্থানে এসেছি। একবার তো ৭৪ বছর বয়সে চলেই গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আল্লাহ ফিরিয়ে এনেছেন। এখন ভাবি, কী রেখে যাচ্ছি? বিরাট একটা মহল বানিয়েছিলাম, বিরাট একটা ইন্ডাস্ট্রি। সেই বাংলা চলচ্চিত্রের আজ কী অবস্থা! এটা আমাকে প্রায়ই ভাবায়।'
'আমরা জানি, আপনার জন্ম ১৯৪২ সালে, কলকাতার টালিগঞ্জে। মা-বাবা শখ করে প্রিয় সন্তানের নাম রেখেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। একেবারে শৈশব-কৈশোরের কথা কিছু শুনতে চাই।'
প্রশ্ন শুনে যেন স্মৃতির গভীরে ডুবতে থাকেন নায়করাজ- 'সে এক উত্তাল সময়। তখনও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এক দেশ। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আমার জন্ম। সে সময় আসলে অন্য আট-দশটি বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুর মতোই বেড়ে উঠছিলাম।'
'সে সময় কি ভেবেছিলেন, কখনও নায়করাজ হয়ে উঠবেন? আপনার প্রথম অভিনয় জীবনের স্মৃতি কি মনে পড়ে?'
'কলকাতার খানপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা উপলক্ষে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয় আমাদের স্কুলে। ক্রীড়া শিক্ষক আমাকে বেছে নিলেন নাটকের নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। সেই প্রথম অভিনয়। তখনও ওভাবে ভাবিনি।'
'মানুষ তো জেনেই গেছে, এ অভিনয়ই আপনার জীবনের বাঁক বদলে দিয়েছে। আপনাকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। কলকাতা থেকে ঢাকায় থিতু হওয়ার গল্পটা জানতে চাই।''দেশভাগের পর ষাটের দশকে এই উপমহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। দাঙ্গার আগুনে পুড়ছে মানুষ। জীবন বাঁচাতে '৬৪ সালে কলকাতা ছেড়ে শূন্য হাতে স্ত্রী লক্ষ্মী ও শিশুপুত্র বাপ্পাকে নিয়ে (নায়ক বাপ্পারাজ) আমি এখানে আসি। বলতে পারো, শরণার্থী হয়েই এখানে আসা। ঢাকায় এসে যখন পা রাখি, তখন চোখের সামনে এক অনিশ্চিত জীবন। থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার পয়সা নেই_ সে এক নিদারুণ দুঃসময়! অভিনয়ের ঝোঁকটা ছিল মাথায়। তাই একটু সুযোগ পেতে ঘুরতে থাকি এর-ওর কাছে। সেই দুঃসময়ে ঘর সামলিয়েছেন আমার স্ত্রী লক্ষ্মী।'
'সেখান থেকে আজকের নায়করাজ। কেমন ছিল উত্তরণের সেই সময়টা?'
"অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাদের। অনেক কষ্ট সয়ে নিজের ভাগ্য বদলাতে হয়েছে, সে সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রেরও। প্রথম দিকে পাকিস্তান টেলিভিশনে 'ঘরোয়া' নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে খানিকটা পরিচিতি পাই। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আবদুুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ আসে হাতে। পাশাপাশি চলতে থাকে অভিনয়ের চেষ্টা। এর পর 'তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন' সিনেমায় একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আমার আবির্ভাব। তখনও ভাগ্য পুরোপুরি খোলেনি। পরে আরও কিছু সিনেমায় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে থাকি। তাতে সংসারটাও ধীরে ধীরে চলতে থাকে।"
"প্রথম নায়ক হয়ে দর্শকের সামনে আপনার আবির্ভাব হলো 'বেহুলা' সিনেমায়?"
সেসব দিনের কথা মনে করে আবারও স্মৃতির গভীরে ডুবতে থাকেন নায়করাজ, "ভাগ্যচক্রে হঠাৎ একদিন নায়ক হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। সে এক কাহিনী। লোককাহিনী নিয়ে জহির রায়হান 'বেহুলা' ছবি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 'বেহুলা' হবেন সুচন্দা। কিন্তু লখিন্দরের চরিত্রে কাউকেই তার পছন্দ হচ্ছে না। ওই সময়ে যারা একটু নামি-দামি শিল্পী, তারা প্রায় পুরো ছবিতেই কঙ্কাল হয়ে শুয়ে থাকতে চাইলেন না। এমন সময় হঠাৎ একদিন জহির রায়হান বললেন, 'রাজ্জাক, আপনিই আমার ছবির নায়ক।' হয়ে গেলাম 'বেহুলা' ছবির নায়ক। সুযোগের সদ্ব্যবহারও করলাম। জহির রায়হানের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় অসাধারণ লখিন্দর হয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম আমি। সঙ্গে অপূর্ব সুন্দরী বেহুলারূপী সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেল 'বেহুলা'। ছবিটি সুপারহিট ব্যবসা করল। তারপর তো ইতিহাস। একের পর এক চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে থাকি। ঢাকার ছবিতে আবদুুল জব্বার খান, রহমান, শবনম, খলিল, ফতেহ লোহানী, খান আতা, সুমিতা দেবী, আনোয়ার হোসেন, সুচন্দার সঙ্গে যোগ হলো আরও একটি নাম- রাজ্জাক।"
'দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এখানে নির্মিত বেশিরভাগ ছবির নায়ক আপনি। দুই ভাই, আবির্ভাব, বাঁশরী, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নীচে, যে আগুনে পুড়ি, পায়েল, দর্পচূর্ণ, যোগ বিয়োগ, ছদ্মবেশী, জীবন থেকে নেয়া, মধু মিলন ইত্যাদি ছবির সাফল্যে আপনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অপরিহার্য এক নাম। এ দেশের ঘরে ঘরে হয়ে ওঠেন প্রিয় এক মুখ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশে পাকিস্তানি ছবি প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব যাদের ওপর বর্তায়, তাদের একজন নায়ক রাজ্জাক। নায়ক রহমান, আজিম, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে হাতে হাত রেখে আপনি পথ চলতে শুরু করলেন?'
রাজ্জাক বলেন, "ঠিক সেই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় রহমান ভাই একটি পা হারালে চলচ্চিত্রের দর্শক ধরে রাখার গুরুভার পড়ে আমার ওপর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তি পায় আমার অভিনয়ে মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ছবি 'মানুষের মন'। এ ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুনভাবে জেগে ওঠে। সূচনা হয় নায়ক রাজ্জাকের যুগ। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ছবি চাষী নজরুল ইসলামের 'ওরা ১১ জন', এসএম শফির 'ছন্দ হারিয়ে গেল', বাবুল চৌধুরীর 'প্রতিশোধ' এবং কাজী জহিরের 'অবুঝ মন' ছবিতে অভিনয় করে আমার পথ পাকাপোক্ত হয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে জহিরুল হকের 'রংবাজ' ছবির নামভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা হয়। শুরু হয় চলচ্চিত্রের আধুনিক অ্যাকশন যুগের। 'রংবাজ' দিয়েই বোধ করি আমার অভিনয় জীবনে বৈচিত্র্য পূর্ণতা পেয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় অনেকে আমাকে এ ছবির ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলেছিল শুরুতে। আমাকে দর্শক পারিবারিক ও রোমান্টিক ছবিতে দেখতে অভ্যস্ত। সেই আমি সিনেমায় মাস্তানি করছি, মদ গিলছি- এটা দর্শক ভালোভাবে নেবে না। তাদের আশঙ্কা ছিল, ছবিটি ফ্লপ করবে। কিন্তু 'রংবাজ' মুক্তির পর আরেক ইতিহাস। ছবি সুপার হিট। 'রংবাজ' করার পর আমার মনে হলো, দর্শককে একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখতে হলে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। প্রয়োজনে দর্শকের জন্য নিজের অর্থে ছবি নির্মাণ করতে হবে। এর পর ছবি প্রযোজনা শুরু করলাম। এর মধ্যে বেঈমান, ঝড়ের পাখি, অনির্বাণ, শ্লোগান, এখানে আকাশ নীল, অতিথি, আলোর মিছিল, অবাক পৃথিবী, ত্রিরত্ন ছবি উল্লেখযোগ্য।''
'এর পর দর্শক আপনাকে আরও একটি নতুন ভূমিকায় পেল। আত্মপ্রকাশ হলো পরিচালক রাজ্জাকের?'
''১৯৭৭ সালে এসে মনে হলো, আমার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সময় হয়েছে। 'অনন্ত প্রেম' দিয়ে শুরু। ছবিতে ববিতা ছিল আমার সহ-অভিনেত্রী। পরবর্তীকালে 'বদনাম', 'সৎভাই', 'চাঁপাডাঙ্গার বউ' এবং 'বাবা কেন চাকর' নির্মাণ করলাম। পরিচালক হিসেবেও আমি দর্শকের সাড়া পেয়েছি, ভালোবাসা অর্জন করেছি।"
'অভিনয় এবং পরিচালনা করতে গিয়ে বিশেষ কোনো প্রাপ্তির কথা কি মনে পড়ে?'
"১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমানের 'অশিক্ষিত' ছবির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। লুঙ্গি আর চার পকেটওয়ালা শার্ট পরে পুরো ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। শুনেছি, তখনকার সিনেমাপ্রেমী দর্শক ছবির শেষ দৃশ্যে মাস্টার সুমনের মৃত্যুর পর পুলিশের খাতায় আমার স্বাক্ষর করার দৃশ্যটি দেখে কেঁদে ফেলেছিল। একই পরিচালকের 'ছুটির ঘণ্টা' ছবিতে স্কুলের দপ্তরির জন্যও অনেকে আমাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার প্রতিবাদে বানালাম 'বাবা কেন চাকর'। এ ছবি দেখেও দর্শক আবেগে আপ্লুত হয়েছে। আমি দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাটকে নিয়ে একসঙ্গে অভিনয় করেছি 'কোটি টাকার ফকির' ছবিতে। কোনো অপ্রাপ্তি আমার জীবনে সেভাবে নেই। তবে বড় মেয়ে শম্পার অকালমৃত্যু আমাকে কষ্ট দেয়।''
'জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা নানাভাবে আপনার সহযাত্রী হয়েছেন, আপনার জীবনে তাদের প্রভাব কতখানি?'
'কলকাতা থেকে আসার পর কমলাপুরের ছোট্ট ঘর থেকে গুলশানের আলিশান বাড়ি, অর্থ, যশ, খ্যাতি, সম্মান, দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমি নায়করাজ রাজ্জাক হয়েছি। আমার এ পথচলায় আছে অনেকের অবদান। তাদের মধ্যে আবদুল জব্বার খান, জহির রায়হান, নজরুল ইসলাম, আজহারুল আনোয়ার, আবদুল লতিফ বাচ্চু, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুভাষ দত্ত, আজিজুর রহমান, আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম এবং বন্ধু মজিবুর রহমান চৌধুরী মজনুসহ আরও অনেকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই তাদেরকে, যাদের ছবিতে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র ও বাচসাস পুরস্কার পেয়েছি।'
'কবরী, শাবানা, ববিতা- অনেকের সঙ্গে জুটি বাঁধলেও এই তিন নায়িকার সঙ্গে আপনার জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের এক ইতিহাস। বিশেষ করে রাজ্জাক-কবরী জুটি ছিল সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে। এখনও এ জুটির কথা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এ যেন এক মোহ?'
রাজ্জাক মৃদু হেসে বলেন, 'তোমাদের মা-খালাদের কাছে খোঁজ নাও। দেখবে, তারাও বলবেন- ওদের তো প্রেম ছিল। কবরীর সঙ্গে আমার জুটি রীতিমতো কিংবদন্তিতে রূপ নিয়েছিল। অনেকের ধারণা, আমরা প্রেম করতাম তখন। কিন্তু আমাদের প্রেম ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি। আমাদের মধ্যে প্রেমের মতোই মান-অভিমান হতো। আবার আমরা ক্যামেরার সামনে যখন দাঁড়াতাম, তখন অভিনয়ের বাইরে অন্য কিছু ভাবতাম না। এ প্রেম ছিল বন্ধুত্বের প্রেম। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেম। আমরা এর বাইরে অন্য কিছু কখনও ভাবিনি।'
'বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আপনি প্রায় একাই দীর্ঘ পথ টেনে এনেছেন। সেই শিল্পের এখনকার অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।'
''আমি যখন কাজ শুরু করি, সে সময় এ দেশে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক হল ছিল। আমার অভিনয় জীবনের সঙ্গে সঙ্গে সে হলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সহস্রাধিক। তখন এক-দেড় লাখ টাকার বাজেটে ছবি হতো। দেড় লাখ টাকায় যে ছবি হতো, সেটা ছিল বিগ বাজেটের ছবি। এখন সে বাজেট দেড় কোটিতে ঠেকেছে। যত দিন বেঁচে আছি, এ দেশের চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করতে চাই। অভিনয়ের মধ্যে থাকতে থাকতেই যেন চলে যেতে পারি। এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখন প্রায় মুমূর্ষুর্ অবস্থায়। এ থেকে উত্তরণে আমাদের সবার কাজ করা উচিত। এই ধারা, সেই ধারা- অনেকে অনেক রকম ছবি বানান। কিন্তু সেসব দর্শক দেখে না। কেউ কেউ টেলিফিল্ম বানান সিনেমার নামে। কিন্তু দর্শক চায় পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, যেখানে একটি বাণিজ্যিক ছবির সব উপকরণ থাকবে। এমন ছবি তৈরি হলে দর্শক আবার হলমুখী হবে। যেমন 'মনপুরা' কিংবা 'আয়নাবাজি'। এগুলো তো বাণিজ্যিক ছবি। দর্শক তা দেখতে হলে ছুটেও গেছে। সুতরাং নানা ধারায় সিনেমাকে বিভক্ত না করে দর্শকের কথা মাথায় রেখে আমাদের বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ করতে হবে। না হলে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচানো যাবে না।"
'প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে মিশে আছে নায়ক রাজ্জাকের নাম। আপনাকে ছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস লেখা অসম্ভব। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শুরু পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের দাপট ধরে রাখেন আপনি। এ সময়ের মধ্যে বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়ে হয়ে ওঠেন তাদের প্রিয় নায়ক। এত দীর্ঘ সময়জুড়ে আর কোনো নায়ক তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারেননি বাংলা চলচ্চিত্রে। এ সময়ের মধ্যে আপনি অসংখ্য ব্যবসাসফল, পারিবারিক, সামাজিক ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ মিলেছে আরও অনেক স্বীকৃতি। সব মিলিয়ে জীবনটাকে কীভাবে দেখেন?'
'একদিন শূন্য হাতে শুরু করেছিলাম। পরিশ্রম করে গেছি নিজের মতো। বিনিময়ে মানুষের উজাড় করা ভালোবাসা পেয়েছি। আমার জন্য দোয়া করবে, যেন মানুষের সেই ভালোবাসা নিয়েই যেতে পারি। বাংলা চলচ্চিত্র আবার তার নিজের পায়ে দাঁড়াক। এখন যারা ছবি নির্মাণ করছে, তারা যদি পুরস্কারের জন্য ছবি না বানিয়ে বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসে, আবার এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে। জানি না সেটা সম্ভব কি-না। কারণ পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। তার পরও সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখ।'
'আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দিয়েছেন। ভালো থাকবেন।'
'তোমরাও ভালো থেকো। আমার দর্শকদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইল। শূন্য হাতে এসেছিলাম। তারাই আমাকে নায়করাজ বানিয়েছে। তাদের ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে পেরেছি কি-না জানি না। তবে আমি সব সময় চেষ্টা করেছি ভালো কিছু দিতে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি_ সবাই ভালো থাকুক।'

পরবর্তী খবর পড়ুন : ভুতুড়ে আয়না

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

ঘরের মাঠে মস্কোয় বিধ্বস্ত রিয়াল

রাশিয়া নামক এক জুজু বুড়ির ভয় ভর করেছে রিয়ালের ওপর। ...

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

হারাচ্ছে জমি, অস্তিত্ব সংকটে সমতলের আদিবাসীরা

'জমি চাই মুক্তি চাই' স্লোগানে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল নেতা সিধু, ...

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

'কোল্ড আর্মসে' কক্সবাজার সৈকতে দুর্ধর্ষ হামলার ছক

দুনিয়াব্যাপী কমান্ডো নাইফ এবং বিশেষ ধরনের ছুরি ও চাকু 'কোল্ড ...

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও ...

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

গ্রেফতার হামলা বন্ধে সিইসির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রতীক বরাদ্দের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ...

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

বৃহত্তম সমাবেশ যুক্তরাজ্যে

১ আগস্ট ১৯৭১। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে দুপুর থেকেই ...

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

চট্টগ্রামে আমীর খসরুর প্রচারে হামলায় আহত ৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ...

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ...