চুঙ্গা পিঠার খোঁজে...

ঘুরি-ফিরি

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯      

গাজী মুনছুর আজিজ

বাঁশের চুঙ্গার ভেতর চাল ভিজিয়ে ও পুড়িয়ে তৈরি করা হয় বলে এর নাম চুঙ্গা পিঠা। এটি সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার। শীত মৌসুমে এ পিঠা তৈরি হয় এ অঞ্চলের ঘরে ঘরে। তবে আগে অনেক বেশি হলেও এখন কিছুটা কম দেখা যায়।

অনুজ বন্ধু নাজমুলের নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গত বছরের মাঘ মাসের এক সকালে হাজির হই মৌলভীবাজারের বড়লেখার সুজানগরে পিঠা খেতে। সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নছিব আলীর বাড়িতে পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়। আগের দিনই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে পিঠার সরঞ্জাম- বাঁশ, চাল ও পাতা। আমাদের সামনেই চলে কার্যক্রম। যে বাঁশের চুঙ্গায় চাল ভরা হচ্ছে, সে চুঙ্গাগুলো লম্বায় আড়াই থেকে তিন ফুট। পাহাড়ি এ বাঁশের প্রকৃত নাম ডুলুবাঁশ। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে এটা চুঙ্গার বাঁশ বলেই বেশি পরিচিত।

আর যে পাতায় মুড়িয়ে চুঙ্গার ভেতর চাল ভরা হয় সে পাতার নাম স্থানীয় ভাষায় খিত্তিপাতা। পাতাটি পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। এর আলাদা একটা সুগন্ধ আছে, যা পিঠার বাড়তি আকর্ষণ। এ পাতা না পাওয়া গেলে কলাপাতা দিয়েও অনেকে করেন। আর যে চাল দিয়ে তৈরি করা হয় তার নাম বিরইন চাল।

পিঠা তৈরির নিয়মটা এমন- প্রথমে খিত্তিপাতায় মুড়িয়ে চুঙ্গার ভেতর চাল ভরা হয়। তারপর বাঁশের ভেতর পানি দিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ভেজানো হয়। ভেজা হলে পাতা দিয়ে বাঁশের খোলা মুখ বন্ধ করে কলাগাছের ওপর বাঁশগুলো সারি দিয়ে বিছিয়ে খড়কুটো দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পোড়ার পর বাঁশ থেকে পিঠা বের করা হয়। এ পিঠা খাওয়া হয় মধু, দুধ, রুই মাছ ইত্যাদি দিয়ে।

কথায় কথায় সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নছিব আলী জানান, মূলত চুঙ্গাপিঠা আদিবাসীদের খাবার। ধীরে ধীরে তাদের কাছ থেকে আমরাও এ পিঠা খাওয়া শুরু করি। এ অঞ্চলে এ পিঠা তৈরি করে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়ি দেওয়ার প্রচলন এখনও আছে। পিঠা তৈরি করা হয় সাধারণত সন্ধ্যার পর। আর খাওয়া হয় রাতে সবাই মিলে। তবে আগে এ পিঠা বানানোর প্রচলনটা বেশি ছিল। এখন কিছুটা কম।

আমাদের সামনেই চাল ভরে ভেজানো হলো। ভিজতে যেহেতু দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগবে, সেজন্য আমরা এ সময়টা ঘুরতে বের হই। ফিরে আসতে আসতে পিঠা পোড়া শেষ। বাঁশ থেকে পিঠা খোলা হয়। খেয়ে মনে হলো সত্যিই এর স্বাদ দারুণ সুস্বাদু।