সারমিন আরা
পুষ্টিবিদ
খাবার শুধু উদরপূর্তির বিষয় কিংবা ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য এবং শারীরিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সুষম খাবার প্রয়োজন। কিছু কিছু পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক তো নয়ই, উল্টো ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। অপরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খেলে নানা রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দেয়।
পানি
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান হলো পানি। পানি না খেলে শরীরে দেখা দেয় নানা রকমের সমস্যা। কিন্তু অতিরিক্ত পানি খেলেও শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পানি খেলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অনেক কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় ডায়লুটেশনাল হায়পোনাইট্রিমিয়া- যা কি-না প্রাণহানির কারণ হতে পারে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি গ্রহণ করা উচিত। নতুবা অতি মাত্রায় পানি গ্রহণে কিডনিতে চাপ সৃষ্টি হয় এবং কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কমলা-টমেটো
কমলা কিংবা টমেটো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী দুটি খাবার। প্রচুর ভিটামিন সি আছে বলে এই খাবার দুটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল মটিলিটি সেন্টারের গবেষক জিনা স্যামের মতে, অতিরিক্ত টমেটো কিংবা কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তো নয়ই, বরং ক্ষতিকর।
এগুলোর অতিরিক্ত এসিডিক উপাদান শরীরে নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যারা কিডনি রোগে আক্রান্ত তাদের এ ধরনের রসালো ফল খাওয়া নিষেধ। এমনকি সুস্থ শরীরে দিনে দুটি টমেটো ও দুটির বেশি কমলা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
পালং শাক
সুস্থ থাকার জন্য প্রচুর সবুজ শাক-সবজি খাওয়া উচিত। তেমনই একটি স্বাস্থ্যকর শাক হলো পালং। পালং শাকে আছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার। তাই পালং শাক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু পালং শাকও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পালং শাকে আছে অক্সালেট নামের একটি উপাদান, যা কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। তাই অতিরিক্ত পালং শাক না খাওয়াই ভালো। শুধু পালং শাক নয়, মাটির নিচের সবজি বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, ওলকপি এসবও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
কম ফ্যাটযুক্ত প্রাণিজ প্রোটিন
প্রোটিন শরীরের জন্য একটি জরুরি উপাদান। বিশেষ করে চিকেন ব্রেস্ট, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি কম ফ্যাটযুক্ত প্রাণিজ প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু এ ধরনের প্রাণিজ প্রোটিনও অতিরিক্ত খেলে শরীরে গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ নামের একটি হরমোন উৎপন্ন হয়, যা দ্রুত বয়স বাড়িয়ে দেয় এবং এ অবস্থা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

মন্তব্য করুন