বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৫      

সমকাল প্রতিবেদক

সদ্যসমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমিত থাকল মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে এ সময়ে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনায় থাকা আওয়ামী সরকারের গত ৬টি অর্থবছরে এই প্রথম মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলো। অবশ্য সর্বশেষ জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়ে বেশি হয়েছে।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, লক্ষ্য ছিল, বছরের গড় মূল্যস্টম্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখা। সরকার তা করতে পেরেছে। এটা সরকারের সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও খাদ্যপণ্যের নিম্নমুখী দাম বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া দেশে ফসলের ভালো উৎপাদন হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে। রমজানের কারণে জুনে মূল্যস্টম্ফীতি সামান্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন মুস্তফা কামাল।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, মূল্যস্ফীতির নিম্নগামিতা বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকার মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ পণ্যমূল্য কম থাকা। এ ধারা বজায় থাকলে সরকার নতুন অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা অর্জিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায় ধরা হয় উচ্চ সুদহার। এখন মূল্যস্ফীতি কমার ফলে সুদহার আরও কমে বিনিয়োগ চাঙ্গা হবে। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিবিএসের হিসাবে জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে। মে মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। একটি নির্দিষ্ট মাসের মূল্যস্ফীতি হলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার দাম বিবেচনায় নিয়ে তৈরি জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই মাসের তুলনায় কত শতাংশ বাড়ল তার হিসাব। এটিকে বলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি। আর ১২ মাসের পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির গড় করলে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হিসাব পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে নতুন ভিত্তিবছর ধরে (২০০৫-০৬) ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) হিসাব করছে বিবিএস। এর আগে ১৯৯৫-৯৬ ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করা হতো।
সরকার তার বাজেটে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মুদ্রানীতিতে গড় মূল্যস্ফীতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তার মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক বছর ধরে সংযত মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, জুন মাসে খাদ্য সূচকে মূল্যস্টম্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের মাসে তা ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত সূচকে মূল্যস্টম্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। এদিকে, গ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। খাদ্য সূচকে এ হার ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত সূচকে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরের ক্ষেত্রে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। খাদ্য সূচকে এ হার ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ বছরের জুন মাসে জাতীয় মজুরি হার ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।