ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৬

সমকাল প্রতিবেদক

সাফল্যের কারণে দিন দিন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দা-পরবর্তীসহ বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাপী দুই হাজার ১০০টির মতো ব্যাংক বন্ধ হলেও কোনো ইসলামী ব্যাংক দেউলিয়া বা বন্ধ হয়নি। সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে আসার চেষ্টা করছে অনেক ব্যাংক। গতকাল শনিবার সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের (সিএসবিআইবি) উদ্যোগে রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিএসবিআইবির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের এমডি ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া এবং দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক উবায়দুর রহমান খান নদভি।
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, বর্তমানে দেশে ৮টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং করছে। এ ছাড়া আরও ৮টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে রেখেছে। যথাযথ নিয়ম মেনে ঝুঁকি মোকাবেলা করার কারণে টেকসই ব্যাংকিং হিসাবে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাফল্য দেখে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ১৫ হাজার ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে তিনি জানান।
একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফ বলেন, রমজানের মর্যাদা কেবল কোরআনের কারণে। পবিত্র এ মহাগ্রন্থ গবেষণা করেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সবাই বড় হয়েছে। পদ্ধতিগত কারণে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক এখন ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর হচ্ছে।
শরিয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক বলেন, আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে কখনও কখনও ইসলামী ব্যাংকিংয়ে ত্রুটি হয়ে যায়। এটা সংশোধনের জন্যই শরিয়াহ বোর্ড কাজ করছে। সত্যিকার ইসলামী অর্থনীতি বাস্তবায়নের জন্য তারা কাজ করছে।
উবায়দুর রহমান খান নদভি বলেন, একসময় বিশ্বজুড়ে ইসলাম রাজত্ব করলেও মুসলমানদের স্থবিরতার কারণে এখন অন্য মতবাদ ইসলামের স্থান দখল করে নিয়েছে। শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন অর্থনীতির দিকে আসতে হলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দিকে আসতে হবে।