মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জ কমানো উচিত

বিআইডিএসের সেমিনারে বক্তারা

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় যে কোনো পরিমাণের টাকা তোলার জন্য প্রায় ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। সার্ভিস চার্জ কমানো এবং একই সঙ্গে তা একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা উচিত। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত সংলাপের দ্বিতীয় দিনে এক কর্ম-অধিবেশনে কয়েকজন বক্তা এমন মত দেন।
বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. মঞ্জুর হোসেন মূল প্রবন্ধে বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের পরিমাণ যত বেশি হয় সার্ভিস চার্জ তত কম হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সব ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হয়। বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির বলেন, সার্ভিস চার্জ আসলে দুই শতাংশের চেয়ে একটু কম এবং এটি ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিদেশি এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিকাশ হচ্ছে সবচেয়ে কম খরচে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক (অপরেশন্স) ড. খুরশিদ আলম বলেন, ছোট ছোট লেনদেনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে বড় লেনদেনের জন্য অন্য মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা লীলা রশিদ বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য প্রথমে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ১৮টি বাজারে আছে। এ বিষয়ে জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিডিজবস ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, ব্যাংক ছাড়াও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
এর আগে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাংকিং খাত নিয়ে অপর এক সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সেমিনারে ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আর্থিক শিক্ষা জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক উদ্যোক্তা তৈরি করা যাবে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংক ছাড়াও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো উচিত। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।