করহারে ছাড় পাওয়ায় দর বাড়ছে আরএমজির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৭      

আনোয়ার ইব্রাহীম

সব কোম্পানির জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্প ছাড়া বাকি সব খাতের কোম্পানি-সংশ্লিষ্টদের নিরাশ করেছেন তিনি। আরএমজির জন্য করপোরেট করহার আগের অর্থবছরের তুলনায় আট শতাংশ কমিয়ে বাজেটে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে এটাই সর্বনিম্ন করপোরেট করহার। বাজেট ঘোষণার পর থেকে এ খাতের শেয়ারদর ক্রমেই বাড়ছে। বাজেট পাসের পর যা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
শীর্ষ এক মার্চেন্ট ব্যাংকের গবেষণা দলের তালিকা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতের আওতায় তালিকাভুক্ত আরএমজির সংখ্যা ১৩। তবে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য তালিকা ঘেঁটে এর বাইরে তালিকাভুক্ত আরও পাঁচ কোম্পানির নাম পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বস্ত্র খাতের অধীনে তালিকাভুক্ত আরএমজির সংখ্যা অন্তত ১৮টি। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি সংখ্যা মোট ৪৮। মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২৯৭টি।
মার্চেন্ট ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী তালিকাভুক্ত আরএমজি কোম্পানিগুলো হলো- সিএনএ টেক্সটাইল, এইচআর টেক্সটাইল, মিথুন নিটিং, ফ্যামিলিটেক্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, ঢাকা ডাইং, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং, জাহিন টেক্স, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, এপেক্স স্পিনিং, স্টাইল ক্রাফট, দেশ গার্মেন্টস ও তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। এসব কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক করহার হ্রাসের সুবিধা পেতে যাচ্ছে।
এর বাইরে বিজিএমইএর ওয়েবসাইটে সদস্য তালিকায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও পাঁচ কোম্পানির নাম পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং, নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস ও তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং। এ ছাড়া বিজিএমইএর তালিকায় না থাকলেও আরএমজি কারখানা-সংক্রান্ত সরকারি ডাটাবেজে আর্গন ডেনিমের নাম রয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সমকালকে বলেন, এমনও কিছু আরএমজি আছে, যেগুলো এখনও সংগঠনের সদস্য পদ নেয়নি। তিনি জানান, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন আরএমজি কোম্পানির মতো, তালিকাভুক্ত আরএমজি কোম্পানিকেও রফতানি মূল্যের ওপর উৎসে কর দিতে হয়। তবে বার্ষিক হিসাব শেষে নিট মুনাফা থাকলে ওই মুনাফার সঙ্গে উৎসে প্রদত্ত কর সমন্বয় করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটে আরএমজির জন্য করপোরেট করহার কমলেও রফতানি পণ্য মূল্যের ওপর উৎসে কর আগের শূন্য দশমিক ৭০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে এক শতাংশ করায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, তালিকাভুক্ত আরএমজি কোম্পানিগুলোর সিংহভাগই মুনাফায় রয়েছে।
তালিকাভুক্ত আরএমজির ১৩ কোম্পানির মধ্যে সিএনএ টেক্সটাইল এবং ঢাকা ডাইং ছাড়া বাকি ১৭টি মুনাফায় আছে। ফলে এর সবক'টিই প্রাতিষ্ঠানিক করহার কমানোর সুবিধা পাবে। বাড়বে নিট মুনাফার পরিমাণ। ফলে ব্যবসা উন্নয়নের ধারায় পতন না হলে আগের বছরগুলোর তুলনায় লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতাও বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রাতিষ্ঠানিক করহার কমানোর প্রভাব এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত আরএমজিগুলোর শেয়ার দরে দেখা যাচ্ছে। এরমধ্যে লোকসানে থাকলেও সিএনএ টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। কোম্পানিটির শেয়ার দর বাজেট পাসের দিন থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সাড়ে ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছে। তবে গত ২ জুন বাজেট ঘোষণার পর শেয়ারটির দর বেড়েছে সাড়ে ২৮ শতাংশ।
দরবৃদ্ধির এরপরের অবস্থানে থাকা এইচআর টেক্সটাইলের বাজার দর গত ২৮ জুনের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৩৯ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার দিনের (গত ২ জুন) তুলনায় দর বেড়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ।
বাজেটে প্রাতিষ্ঠানিক করহারে পরিবর্তনের খবরের পর আরএমজি খাতের যে কোম্পানিটির শেয়ার দর তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে, সেটি হলো নূরানী ডাইং। কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৬ শতাংশ বেড়ে গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ২৬ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।
এরপরের অবস্থানে রয়েছে ফ্যামিলিটেক্স। গত ২৮ জুনের তুলনায় শেয়ারটির দর সাড়ে ১৩ শতাংশ ও গত ২ জুনের তুলনায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বেড়ে ৯ টাকা ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। এ তালিকার চতুর্থ অবস্থানে থাকা মিথুন নিটিং কোম্পানির শেয়ার দর ২৮ জুনের তুলনায় ১৬ শতাংশ ও ২ জুনের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেড়ে গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ৪৭ টাকা ৮০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে।
দর বৃদ্ধির পঞ্চম অবস্থানে থাকা জেনারেশন নেক্সটের শেয়ার দর গত ২৮ জুনের তুলনায় পৌনে ১৩ শতাংশ ও ২ জুনের তুলনায় সোয়া ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ১ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কেবল তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর গত ২৮ জুনের পর সর্বশেষ বাজার দরের হিসাবে সাড়ে তিন শতাংশ কমেছে।