মানবসম্পদ

বৃত্তিমূলক শিক্ষাই সময়ের দাবি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

দেশে কলেজ বেড়েছে; কিন্তু বাড়েনি শিক্ষার মান। এখন ৩৩৫টি সরকারি কলেজ, এমপিওভুক্ত দুই হাজার ৩৬৫টিসহ কলেজের সংখ্যা চার হাজার ২০০টি। অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও বেশ কিছু কলেজ। বেশিরভাগ কলেজে দক্ষ ও মানসম্পম্ন শিক্ষক নেই, প্রয়োজনীয় পাঠকক্ষ নেই, নেই ল্যাব-লাইব্রেরি। নানা সমস্যায় জর্জরিত। পাঠদানে অনিয়ম ও অদক্ষতার ব্যাপার বহুল আলোচিত। যে কারণে পরীক্ষায় ভালো করছে না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করায় এবং কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় ২১৯টি কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বছর একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী পায়নি ২৮০টি কলেজ। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন নিত্যনতুন কলেজ গড়ে উঠছে? তবে এমনও প্রতিষ্ঠান আছে, যা গড়ার পেছনে শিক্ষানুরাগের কোনো ব্যাপার নেই। অনেক স্থানে চাকরির প্রয়োজনে বেকার মাস্টার্সধারী যুবকরা কলেজ গড়েছেন। এলাকার কোন্দলে পাল্টাপাল্টি কলেজ করা হয়েছে। আর কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়োগ বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। ফলে অযোগ্যদের চাকরি হচ্ছে। চাকরি হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়ও। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং ও জবাবদিহির বালাই নেই। সবই ফ্রি স্টাইল। এমনও অভিযোগ আছে- শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করেন না। চাকরি গ্রামে, থাকেন শহরে। সপ্তাহে দু-একদিন আসেন কিংবা আসেন না। খুঁটির জোর থাকলেই হলো। আর অনেক শিক্ষার্থীও শিক্ষা গ্রহণ জরুরি মনে করে না। দুই-একখানা সার্টিফিকেটই তাদের লক্ষ্য। কারণ, শিক্ষা শেষে চাকরি মিলবে এমন ভরসা পায় না। এ ক্ষেত্রে বৃত্তিমূলক শিক্ষার কথা ভাবতে হবে। যেটি কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানবসম্পদ উন্নয়নে এর বিকল্প নেই। দেশে এখন স্বল্প সংখ্যক কারিগরি কলেজ আছে; সেগুলোর কারিকুলামও যুগোপযোগী নয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে যুগোপযোগী করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক কলেজ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেখানে কৃষি শিক্ষা, শিল্প, কম্পিউটারের নানা শাখা, গার্মেন্ট, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, গাড়ি মেরামত ইত্যাদি থাকবে- যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরি শেষে দেশে ও বাইরে কাজ পেতে পারে। তবে চটজলদি প্রতিটি এলাকায় বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে সাধারণ কলেজগুলোতেও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করা জরুরি মনে করি। শিক্ষার মানোন্নয়নে চাই কলেজ প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, যত্রতত্র কলেজ প্রতিষ্ঠা নিয়ন্ত্রণ, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগদানসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। চাই নজরদারি ও জবাবদিহি, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কারও টুপাইস কামানোর ক্ষেত্রে পরিণত না হয়।