মানসিক হাসপাতাল

মানসিকতা বদল হোক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭

মানসিক রোগের জন্য দেশের প্রাচীনতম বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র 'পাবনা মানসিক হাসপাতাল' কীভাবে নিজেই রোগগ্রস্ত- শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে তার খন্ডচিত্র ফুটে উঠেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ দূরে থাক, পুরনো ভবনগুলোও যে জরাজীর্ণ, পলেস্তারা খসা, দরজা-জানালা ভাঙা- প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত আলোকচিত্রেই স্পষ্ট। প্রতিবেদনের ভাষ্য আমাদের আরও উদ্বিঘ্ন করে তোলে। ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে সুষ্ঠু পরিচালনা কীভাবে সম্ভব? এ ধরনের একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার মতো অতি জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। রোগীদের খাদ্য বাবদ বরাদ্দ আমাদের কেবল বিক্ষুব্ধ নয়, বিস্ট্মিতও করেছে। রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ১২৫ টাকা থেকে ভ্যাট বাদ দিয়ে থাকে ১০৬ টাকা। ঠিকাদারের মুনাফা ও দাপ্তরিক পরিচালনা ব্যয় এখান থেকে বাদ দিলে থাকে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এই বরাদ্দে একজন মানসিক অসুস্থ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত দূরে থাক, প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করা কি সম্ভব? খোদ হাসপাতালের পরিচালক মনে করেন, খাবারের বরাদ্দ দুই থেকে আড়াই গুণ বাড়ানো উচিত। আমরা উদ্বিঘ্ন যে, খাবারের মতো মৌলিক প্রয়োজনে যেখানে এমন পরিস্থিতি, বাকিগুলোর অবস্থা অনুমান করা কঠিন হতে পারে না। বস্তুত মানসিক রোগীদের ব্যাপারে নির্লিপ্ততা ও অবহেলাই যেন দেয়াল লিখন হিসেবে হাজির হাসপাতালটিতে। এটা যে স্থানীয় পরিস্থিতি নয়, বরং আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবণতা; এর প্রমাণ মেলে ঢাকায় অবস্থিত 'জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট'-এর দিকে নজর দিলে। সহযোগী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এমআরআইসহ চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের মৌলিক সরঞ্জামগুলোই হাসপাতালটিতে নেই বা নষ্ট। লিফটের মতো জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে অহরহ। আমরা জানি, মানসিক রোগের চিকিৎসা বরং সাধারণ রোগের তুলনায় বেশি স্পর্শকাতর সেবা। অন্যান্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেমন রোগীর সহযোগিতা মেলে, এ ক্ষেত্রে তা নয়। অনেক মানসিক রোগীই পারিপার্শ্বিক চাপ ও অবহেলার শিকার। এর চিকিৎসাকেন্দ্রও যদি এভাবে অবহেলিত থাকে এবং খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে রোগ সারবে কীভাবে? আমরা চাই, দেশের বিপুলসংখ্যক মানসিক রোগীর ভরসাস্থল প্রধান হাসপাতাল দুটিতে অবকাঠামো ও জনবল সংকট দূর করা হোক অবিলম্বে। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও স্বজনদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাবনায় এমন ২২ জন রোগী পাওয়া গেছে, যারা সুস্থ হলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন না স্বজনদের অস্বীকৃতি ও অবহেলার কারণে। আমরা মনে করি, মানসিক রোগ ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি স্বজন ও সমাজের মানসিকতাও বদল জরুরি।