যৌতুকের অভিশাপ

এ বর্বরতার শেষ কোথায়?

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যৌতুকলোভী স্বামী সোহাগ তার স্ত্রীকে এক লাখ টাকার জন্য জ্বলন্ত চুলায় নিক্ষেপ করে। দগ্ধ মুন্নী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৬ এপ্রিল সমকালে প্রকাশ, কিশোরী মুন্নীকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল তার স্বামী। মুন্নীর দরিদ্র বাবা অপারগতা প্রকাশ করলে সোহাগের হিংস্রতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নারী যৌতুকের বলি হচ্ছে- এটা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। মুন্নীর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার মর্মন্তুক ঘটনায় ফের প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে- এ বর্বরতার শেষ কোথায়? এই ঘটনা পুনর্বার চোখে আঙুল দিয়ে এও দেখিয়ে দিয়েছে, সমাজে এক শ্রেণির মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে কতটা পাষণ্ড হয়ে উঠতে পারে। যৌতুকের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে কিন্তু তারপরও এর নাগপাশ থেকে মুক্তি মিলছে না। পারিবারিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। নানাভাবে নারী নির্যাতনের উৎকট রূপ এও দেখিয়ে দেয়, দিনের পর দিন সমাজ যেন পিছিয়ে যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত কিংবা তথাকথিত শিক্ষিত পরিবারে যেমন, তেমনি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোতেও নারী প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে। প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে না পারলে এর বিরূপ প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে। মুন্নীর ওপর বর্বর নির্যাতনের যে খবর পত্রিকার পাতায় উঠে এসেছে, এটা হয়তো খণ্ডচিত্র। এমন আরও অনেক মুন্নীর খবর থেকে যাচ্ছে খবরের আড়ালে। যৌতুকলোভী স্বামী সোহাগের দৃষ্টান্তযোগ্য দণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র মুন্নীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে এবং অন্যায়-অপরাধের রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও প্রশাসনের কতিপয়ের দুর্নীতিজনিত শৈথিল্যের অবসান ঘটাতে হবে। সমাজের হারানো সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তিও ফিরে পেতে হবে। এই ব্যাধিকে সামগ্রিকভাবে নারী নির্যাতন কিংবা সমাজের ভয়াবহ অধঃপতন- যেভাবেই অভিহিত করা হোক না কেন, এ থেকে মুক্ত হতে না পারলে মানবিক অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে। এমনটি তো কাম্য হতে পারে না।