পদ্মাপাড়ে মানববন্ধন

কার্যকর নদীশাসন চাই

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

নদীভাঙন বাংলাদেশে নতুন কোনো সমস্যা নয়। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষ মোকাবেলা করে চলছে এ ধরনের বিপর্যয়। নদীমাতৃক এই দেশে জালের মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। কখনও কখনও এই নদীই হয়ে ওঠে সর্বসংহারী। শনিবার সমকালের একটি সচিত্র প্রতিবেদনে প্রকাশ- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধন করেছে। তাদের একটাই দাবি- 'রিলিফ চাই না; চাই নদীশাসন'। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ নদীভাঙনে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এমন আরও বহু নজির আমাদের সামনে রয়েছে। এক সমীক্ষায় প্রকাশ, প্রতি বছর দেশের আড়াই লাখ মানুষ নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বছরে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অব্যাহত নদীভাঙনে ছিন্নমূল মানুষের শহরমুখী জনস্রোত ক্রমবর্ধমান হারে স্ম্ফীত করে চলেছে দীর্ঘকাল ধরে। নদীভাঙনের কারণ অনেক। এ যেমন প্রকৃতিসৃষ্ট তেমনি অনেকটা মনুষ্যসৃষ্টও। বর্ষা মৌসুমে যেমন নদী ভাঙে, তেমনি শুকনো মৌসুমেও দেখা যায় ভাঙন। একদিকে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অন্যদিকে কিছুসংখ্যক মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড নদ-নদীর ক্ষতি করে চলেছে। অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বালু উত্তোলন, দখল, নাব্য হ্রাস ইত্যাদি কারণে নদ-নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। পানি ভাটির দিকে সহজে নামতে পারে না। ফলে সেই পানি তীরবর্তী এলাকার দিকে ধাবিত হয়। গ্রামীণ দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ নদীভাঙন। নদীভাঙন রোধে অপরিকল্পিতভাবে বহু টাকা পানিতে ফেলা হয়েছে; সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল অসাধুদের পকেটও স্ম্ফীত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীশাসনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন জরুরি। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের স্থায়ী উপায় খুঁজে পাওয়া দুরূহ নয়। নদীর নাব্য ফেরাতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীশাসনে নিতে হবে বৈজ্ঞানিক পন্থা। প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। নদী তো প্রকৃতিরই দান। নদীর চলার পথ বাধাগ্রস্ত হলে নদী ভাঙবেই। পদ্মাপাড়ের মানুষের মানবিক দাবি আমলে নিয়ে এমন সবক্ষেত্রেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।