বিদ্যুৎ খাতে অর্জন

উৎসবের মাঝেও অস্বস্তি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে- এটা উদযাপনের বিষয় বৈকি। শেখ হাসিনার সরকার এর আগে এ ক্ষমতা ১০ হাজার ও ১৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পরও আতশবাজি ফুটেছে, আলোকের ঝর্ণাধারা দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। তবে বিশেষভাবে অনেক এলাকায় কিন্তু রাজধানী ঢাকা কিংবা বড় বড় শহরের মতো প্রায় লোডশেডিংমুক্ত পরিস্থিতি নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের উদযাপনের আয়োজন তাদের কাছে পরিহাসও মনে হতে পারে।

নতুন অর্জন উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগ রাজধানীতে বিশেষ মেলার আয়োজন করেছে। সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে নানা বয়সের নারী-পুরুষের কৌতূহল মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়েও দর্শনার্থীরা জানতে পারছেন। শুভ উদ্যোগ সন্দেহ নেই। ১০ বছরেরও কম সময়ে উৎপাদন ক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধি করতে পারার জন্য অবদান রেখেছেন অনেকে। তবে বিদ্যুৎ এমন একটি পণ্য, যা নিয়ে প্রত্যাশার শেষ নেই। প্রতিদিন নয়, বলা যায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ চাহিদা। সরকার ও বেসরকারি খাতের যারা এ মহৎ কর্মকাণ্ডে যুক্ত তারা সব সময় এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। এটাই স্বাভাবিক। বিদ্যুতের চাহিদা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে মোটামুটি স্থিতিশীল। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এটা হওয়ার নয়। একটি নতুন কেন্দ্র উদ্বোধন করতে না করতেই আরেকটি কেন্দ্র চালুর জন্য প্রস্তুত হতে হয়। আমাদের আরও একটি সমস্যা- বিতরণ ব্যবস্থার আয়োজন উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় বেশ কম। এ বিষয়ে সমতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ব্যয়বহুল। যদি পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব না হয়, তাহলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। অথচ আমাদের উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় প্রকৃত উৎপাদন অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কম। আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ- ব্যক্তিগত কিংবা শিল্প-বাণিজ্যের বিভিন্ন উদ্যোগ, যেখানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হোক না কেন, সবার দাবি থাকে চার্জ বা মূল্য যতটা সম্ভব কম রাখা। সঙ্গত কারণেই কেন্দ্র নির্মাণ ও বিতরণ ব্যবস্থার ব্যয় যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার প্রতি আরও মনোযোগ চাই। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের কাছ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নিয়ে বিতরণের কাজটি করে থাকে সরকার। সরকার যে দামে বিদ্যুৎ কেনে, সেই দামে বিক্রি করতে না পারলে দায় চাপে জাতীয় বাজেটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আবেদনের পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সন্দেহ নেই, বিষয়টি অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করেছে বিভিন্ন সময়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যয় বাড়ছে, সেটাও জানা কথা। কিন্তু যুক্তি যতই থাকুক, বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসের মতো অপরিহার্য সেবার মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনের বছরে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবা হলে এমনকি ক্ষমতাসীন দল ও জোটের ভেতর থেকেও বাধা আসা স্বাভাবিক। সাফল্যের উদযাপনের মধ্যেও তাই সরকারকে খুঁজে নিতে হয় সাবধানী পথ।

পরবর্তী খবর পড়ুন : চিঠিপত্র

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে নতুন বেঞ্চে শুনানি বৃহস্পতিবার

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে নতুন বেঞ্চে শুনানি বৃহস্পতিবার

আসন্ন নির্বাচনে তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ...

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা

আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং ...

আ.লীগের মতো উন্নয়ন কেউ করেনি: নাসিম

আ.লীগের মতো উন্নয়ন কেউ করেনি: নাসিম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতের কোন ...

'স্লগ ওভারে বোলিংয়ে উন্নতি দরকার'

'স্লগ ওভারে বোলিংয়ে উন্নতি দরকার'

গেল জুলাইয়ের কথা। ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ...

এফডিসিতে হবে আধুনিক মসজিদ

এফডিসিতে হবে আধুনিক মসজিদ

২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চলচ্চিত্রপাড়া খ্যাত এফডিসিতে নির্মিত ...

প্রার্থী বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রার্থী বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আত্মরক্ষার জন্য প্রার্থীর যে ...

চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ দল শেষ ষোলোয়

চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ দল শেষ ষোলোয়

চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। ...

আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে আ. লীগ: ইআইইউ

আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে আ. লীগ: ইআইইউ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংসদের বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ...