উদ্যোক্তা সহায়তা তহবিল

শুভ উদ্যোগ যেন ভেস্তে না যায়

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তার জন্য এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ড বা ইএসএফ থেকে ঋণ প্রদানের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এ তহবিল পরিচালিত হবে সরল সুদে মাত্র ২ শতাংশ সুদে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইসিটিভিত্তিক শিল্পের জন্য আবেদন নিচ্ছে আইসিবি বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ। কৃষি-খাদ্যে ঋণ দেওয়া হবে সর্বনিম্ন ৮ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত। যন্ত্রপাতিনির্ভর প্রকল্প হলে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। বাংলাদেশ ব্যাংক শিল্প-বাণিজ্যের বিভিন্ন উদ্যোগে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৯ শতাংশ। সব ব্যাংক এ নির্দেশ এখন পর্যন্ত মানছে না; তবে এ জন্য চেষ্টা চলছে। সে তুলনায় ২ শতাংশ সুদে ঋণ মিললে সেটা পেতে উদ্যোক্তার অভাব হওয়ার কথা নয়। ইতিমধ্যে ৮০টি আবেদন জমা পড়েছে। একটু জানাজানি হলে আবেদনের স্তূপ দেখা যেতেই পারে। তবে এ ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে সংশয়ের কথা বলে রাখা ভালো। ভর্তুকির সুবিধা থাকা কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ থেকে সুবিধা গ্রহণে মধুলোভীর অভাব হয় না। অপাত্রে ঋণ দিতে রাজনৈতিক ও অন্যান্য মহল থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টির নজির রয়েছে এবং তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অজানা নয়। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা চাল কিংবা ত্রাণসামগ্রী যেমন সচ্ছলদের ঘরে চলে যায়, তেমনি ২ শতাংশ সুদের ঋণ পেতেও ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা অসম্ভব নয়। এ ধরনের তথাকথিত উদ্যোক্তারা নিজেদের যোগ্য প্রমাণে কিছু খরচাপাতি করতেও ইতস্তত করবে না। তাদের রুখতে না পারলে এ শুভ উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে পারে। দেখা যাবে, ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। কিন্তু শিল্পের দেখা নেই। নতুন কর্মসংস্থান নেই। ঋণ পরিশোধের সময় এলে অনেক প্রতিষ্ঠানের হদিসও মিলবে না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, সেটা কাম্য নয়।