ফাইজার প্রাণহানি

সড়কে মৃত্যুমিছিল কত দীর্ঘ হবে

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আবারও শিক্ষার্থীর রক্তে ভিজে গেল রাজপথ। রাজধানীর উত্তরায় মঙ্গলবার বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া মাইলস্টোন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজা তাহমিনা সুচি বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে। গাড়ির ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া ফাইজার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় গাড়িটি- সমকালের প্রতিবেদনে তা বলা হয়েছে। মাইক্রোবাসটিকে আটক করা সম্ভব হলেও ঘাতক চালক পালিয়ে যায়। একই দিনে সড়কে মৃত্যু হয়েছে আরও দুই শিশু শিক্ষার্থীসহ ১২ জনের। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের দেশ কাঁপানো আন্দোলন এবং সরকারের নানা প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না প্রাণহানি। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ৭১১ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬ হাজার ১৩০ জন। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস তুলে দেওয়ার পর যে আন্দোলন দেশজুড়ে গড়ে উঠেছিল, তা শুধু চালকের শাস্তির দাবিতে সীমিত ছিল না, অনেক দূর গড়িয়েছিল। পাস হয়েছিল বহুদিন ঝুলে থাকা সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনটি।

কিন্তু যানবাহনচালকরা এ থেকে যে নূ্যনতম শিক্ষাও গ্রহণ করেনি- মঙ্গলবারের মর্মন্তুদ ঘটনাটি এরই নজির। এভাবেই কি রক্তপাত-প্রাণ আর অশ্রু সমান্তরালে ঝরতে থাকবে? সড়কে নৈরাজ্য ক্রমেই বাড়ছে। সহজ অর্থে এই যন্ত্রদানবের ছোবল থেকে মানুষ এখন কোথাও নিরাপদ নয়। সড়ক ছেড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর আছড়ে পড়ছে যন্ত্রদানব কুটিরে। যন্ত্রের হাত-পা নেই, কিন্তু যারা যন্ত্রের নিয়ন্ত্রক তারা তো সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে পরিচিত। 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়'- মধ্যযুগের খ্যাতিমান বাঙালি কবি ভারতচন্দ্রের এই কাব্যপঙ্‌ক্তির মর্মার্থ সচেতন মানুষমাত্রই জ্ঞাত। সড়ক-মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকবে, এর কোনো দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা যাবে না- তা তো হতে পারে না। আমরা মনে করি, শ্রমিক সংগঠনের বেপরোয়া মনোবৃত্তি চালকদের লাগামহীন আচরণের জন্য দায়ী। প্রবল সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক সংকল্পে শৃঙ্খলা স্থাপন দুরূহ নয়। অনেক কথা হয়েছে এই নিয়ে। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক এবং এর জন্য পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙতে হবে। চাই কঠোর-নির্মোহ পদক্ষেপ।