মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার খবর উদ্বেগজনক। বুধবার সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ হতে না হতেই একটি অসাধু গোষ্ঠী তৎপর হয়েছে। এ অপচেষ্টা বন্ধ করা না গেলে ফের অনিশ্চয়তায় পড়বে পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ দেশটির বাজার। আমাদের অর্থনীতির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। এর ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে চাপ কম থাকে; একই সঙ্গে সমৃদ্ধ হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর কারণে এ বাজার বিপন্ন হোক, সেটা কাম্য হতে পারে না। অথচ মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে সেটাই ঘটছে। সরকার ও জনশক্তি রফতানির সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের কেউ কেউ এ বাজার পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকে। এ জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কম হয়নি। একসময় তো প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সমবণ্টনের নিয়মে কর্মী প্রেরণের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামমাত্র চার্জ নিয়ে তালিকা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছিল। এক পর্যায়ে ফর্মুলা গ্রহণ করা হলো জিটুজি। তারপর এলো জিটুজি-প্লাস। কিন্তু সবকিছুতেই যেন অনিয়ম-দুর্নীতির আছর। সর্বশেষ জিটুজি-প্লাস পদ্ধতিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে সেখানে এ ব্যবস্থার অধীনে যেতে পারে পৌনে দুই লাখ কর্মী। এ তথ্য থেকে স্পষ্ট, সে দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশও তা পূরণ করতে পারে। এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য ছিল সহনীয় ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ। অথচ সেটাই ভণ্ডুল হয়ে যায় একটি অসাধু চক্রের কারণে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত 'সিন্ডিকেট সক্রিয়' প্রতিবেদনে বলা হয়, জিটুজি-প্লাস ব্যবস্থায় জনপ্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় পড়ার কথা ছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বাস্তবে তিন লাখ টাকার কমে কেউ মালয়েশিয়া যেতে পারেনি। প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হওয়ার কারণ একটিই- দুর্নীতি। মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এ পদ্ধতির গলদ চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত হয়। তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এই বিপুল অর্থ গচ্চা গেছে বাংলাদেশের কর্মীদের। এর পেছনে মালয়েশিয়ার কে বা কারা জড়িত, সেটা চিহ্নিত করার দায়িত্ব সে দেশের। কিন্তু একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা নস্যাৎ করে দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের কোন কোন প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল- সেটা আমাদেরই বের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি ঘোষণা করেছেন। নতুন শ্রম প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদও স্পষ্টভাষায় বলেছেন, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা চাই, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে যাক। এ জন্য অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি-অনিয়মকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় না দেওয়া। আমাদের কর্মীরা যেন কম ব্যয়ে ও প্রতারণার শিকার না হয়ে সে দেশে যেতে পারে- সেটা নিশ্চিত করা চাই।

মন্তব্য করুন