ইলিশের অভয়াশ্রম

জেলেদের ভীতিও দূর করুন

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বরিশাল অঞ্চলে প্রবহমান কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, নয়ভাঙ্গুলি, গজারিয়া ও কীর্তনখোলার ২৬৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রমের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগকে আমরা সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানাই। অভয়াশ্রম ঘোষণা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। বরং এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা এ ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি। গত দেড় দশকে এর কার্যকারিতাও ইতিমধ্যে স্পষ্ট। জাটকা রক্ষা কর্মসূচির কারণে ইলিশের মোট উৎপাদন বৃদ্ধিও প্রমাণিত। সতর্কতার প্রশ্ন উঠে আসে আসলে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে। অভয়াশ্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভর জেলেদের প্রণোদনা হিসেবে যে ত্রাণ দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো পৌঁছতে দেখি না আমরা। এর পরিমাণ ও প্রতুলতা নিয়েও থেকে যায় প্রশ্ন। নতুন অভয়াশ্রমসহ ছয়টিতেই আমরা এই মৌসুমে এর পুনরাবৃত্তি কামনা করি না। নিছক পেটের দায়ে কোনো জেলে অভয়াশ্রমে নামলে, যেভাবে জাল-নৌকা বিনষ্ট এবং তাদের জেল-জরিমানা করা হয়, তাও অনেক ক্ষেত্রে 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' বিবেচিত হয়ে থাকে। তাদের অনেকে নিয়মকানুন ও সময়সীমা সম্পর্কেও হয়তো সচেতন থাকেন না। ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের কার্যক্রম নিয়ে শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনেই এ ধরনের পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। মৎস্য কর্মকর্তারা যদিও বলছেন, তারা ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে প্রচার কার্যক্রম ও সচেতনমূলক সভা করছেন; হিজলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির নেতা বলছেন, ওই এলাকায় এখনও এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বক্তব্য ও বাস্তবতার এই ব্যবধান কমাতেই হবে। বিবেচনা করতে হবে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর 'অপরাধ'-এর মাত্রাও। প্রণোদনার ত্রাণ সময়মতো না পৌঁছলে, পর্যাপ্ত না হলে, কেউ যদি পরিবার ও পেটের দায়ে পানিতে নামে, তাকে গুরু দণ্ড দেওয়া উচিত হবে না। জাটকা রক্ষা করতে গিয়ে সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধও কতটা বৈজ্ঞানিক, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। জালের ফাঁক নির্ধারিত করে দিলেই জাটকাসহ পোনা মাছ রেহাই পেতে পারে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, শুধু অভয়াশ্রমে কড়াকড়ি করে বাকি নদ-নদীতে জাটকা ধরা অবারিত রাখলে সুফল মেলা কঠিন। কারণ মাছ অভয়াশ্রমে জন্মায় না, বরং গোটা নদীপথেই চলাচল করে।