বেপরোয়া ছিনতাই

টঙ্গীকে নিরাপদ অঞ্চল করুন

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত টঙ্গী রাজধানী ঢাকার একদিকের গেটওয়েও বটে। অথচ এ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকেই অভিহিত করা হয়েছে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে। রোববার সমকালে 'পথেই সর্বস্বান্ত' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য, মালিকদের অর্থ, শ্রমিকদের বেতন- কত কিছুই না ছিনতাইকারীদের টার্গেট। ছিনতাইয়ে যুক্তরা কেউ কেউ সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়াও আছে। একজন ওয়ার্ড কমিশনারের ভাষ্য- 'প্রশাসনকে ছিনতাইয়ে জড়িতদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।' সমকালের প্রতিবেদনেও রয়েছে কয়েকজনের নাম-ঠিকানা। কোন কোন এলাকায় বেশি ছিনতাই হয় এবং ছিনতাইয়ে যুক্তদের আশ্রয়স্থল কোথায়- তার তালিকাও মিলবে প্রতিবেদনে। সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে এবং ভুক্তভোগী ও সংশ্নিষ্ট অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেই এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গাজীপুর জেলার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, সংঘবদ্ধ এ চক্রের তৎপরতার বিষয়ে তারা অবগত। তার ভাষ্য- 'ছিনতাইকারীরা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের দিন কারখানার আশপাশে অবস্থান নেয়।' তার দাবি, ছিনতাইচক্র রোধে পুলিশ সক্রিয়। বেতনের দিন পুলিশ টহল বাড়ানো হয়। আমরা মনে করি, শ্রমজীবীদের সর্বস্বান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য কারখানায় দিনের বেলা বেতন পরিশোধ এবং বিকাশ বা এ ধরনের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন প্রদানের প্রস্তাব সংশ্নিষ্টরা বিবেচনা করতে পারেন। এটা ঠিক যে, ছিনতাইয়ের কোনো কোনো ঘটনায় মামলা হয়, গ্রেফতারের ঘটনাও আছে। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা হচ্ছে- 'সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে।' আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন আরও সক্রিয় হলে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ শিল্পাঞ্চলের মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী ও অন্যরা নিরাপদ-নিরুদ্বিগ্ন জীবন পেতে পারে। কিন্তু কে নেবে সে ভার? পুলিশ-র‌্যাব-শিল্প পুলিশ প্রভৃতি বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরাও দায় এড়াতে পারেন না। সরকারদলীয় এক স্থানীয় নেতার প্রভাবে এক ছিনতাইকারী বারবার আটকের পর ছাড়া পাচ্ছে- এ অভিযোগ গুরুতর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষুষ্ণতার নীতি ঘোষণা করেছে। টঙ্গী এলাকায় ছিনতাইকারীর পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় আওয়ামী লীগ নেতা- এ বদনাম নিশ্চয়ই দলের টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ও গাজীপুর জেলার নেতারা মেনে নিতে চাইবেন না। ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এলাকায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের হলেও তদন্ত-মামলা-বিচার প্রক্রিয়ায় কেন গতি নেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার অনুসন্ধানে নেমে পড়তে পারে। আউচপাড়ার এ ঘটনায় ছিনতাইয়ে যুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপরও কেন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তৎপর নেই টঙ্গী থানা? আমরা চাই টঙ্গী শিল্পাঞ্চল ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য নয়, বরং দ্রুতই সাধারণ মানুষের অভয়ারণ্য হয়ে উঠুক। এ জন্য সংশ্নিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রয়াস চাই। বিশেষভাবে কাম্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃঢ়সংকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ। সামাজিক উদ্যোগও এ ক্ষেত্রে সহায়ক।