গড়াই খনন

অতীতের পুনরাবৃত্তি চাই না

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় খননের যে প্রয়োজনীয়তা আমরা বারংবারই উচ্চারিত হতে দেখি, তার সঙ্গে গড়াইয়ের চিত্র মিলিয়ে দেখার অবকাশ নেই। অধিকাংশ নদ-নদীতে খনন কার্যক্রমের দাবি যেখানে সদিচ্ছা ও সংস্থানের জটিল আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে মরে, সেখানে গড়াই তৃতীয়বারের মতো খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার সমকালের লোকালয় পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ছয়শ' কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই বাঁচানোর এই প্রকল্প চলতি বছরের অক্টোবরে শুরু হতে যাচ্ছে। নদী হিসেবে গড়াইয়ের গুরুত্ব অস্বীকার করার অবকাশ নেই। উপকূলীয় সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থায় গড়াইয়ের প্রবাহ পালন করে আসছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর গঙ্গার এই প্রধান শাখা প্রবাহস্বল্পতায় ভুগতে থাকে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলের অন্যান্য নদ-নদীও শুকিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার পর নূ্যনতম প্রবাহ থাকলেও এর সুফল গড়াইয়ে গড়াচ্ছিল না নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে। সেদিক থেকে খননের সিদ্ধান্ত সঠিক, সন্দেহ নেই। কিন্তু এর কার্যকারিতা টেকসই হয়নি দুই কারণে। প্রথমত, পলল নদীতে খনন বা ড্রেজিংয়ের মেকানাইজড পদ্ধতি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও ভাবতে বলি আমরা। গড়াইয়ে দেখা যাচ্ছে, যতটুকু কাজই হয়েছে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের বালুতে বুজে গেছে। এই অঞ্চলে নদীর নাব্যতা রক্ষায় হাজার বছর ধরে বান্ধাল পদ্ধতি ব্যবহূত হতো। পরিবেশবান্ধব ও আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী এই পদ্ধতি গড়াইতে ব্যবহার করা হলে সুফল মিলবে বলে আমাদের বিশ্বাস। দ্বিতীয়ত, আগের দুই দফায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বরাদ্দের সদ্ব্যবহার হয়নি। এ ব্যাপারে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আমরা জানি, নদী খননের বিপুল বরাদ্দ বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের পক্ষে সহজ নয়। রাষ্ট্রীয় সেই অর্থ যদি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষের পকেট ভারি করতে ব্যবহূত হয়, এর চেয়ে অগ্রহণযোগ্য আর কী হতে পারে? আগের অনিয়মের শাস্তি না হলে পরের প্রকল্পেও এর পুনরাবৃত্তির শঙ্কা রয়েই যায়। আমরা দেখতে চাইব, নতুন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ভাবা হয়েছে টেকসই সমাধান নিয়েও। গড়াই নিয়ে অতীতে যা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না আমরা।