ইউএনও ওএসডি

মানবিকতা তবে নির্বাচনে!

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মা হওয়াই অপরাধ- সোমবার সমকালে এ শিরোনামের প্রতিবেদন আমাদের অশ্রুসিক্ত করে। ক্ষুব্ধ ও বেদনাহত করে। সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ার কারণে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, এমন বিবেচনা থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি বা ওএসডি করেছে- তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ পদে যারা দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান, তাদের সরাসরি সংযোগ থাকে আমজনতার সঙ্গে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে, সরকারি-বেসরকারি বহু ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে তাদের নিত্যদিনের ওঠাবসা। অনেক নারী-পুরুষের আনন্দ-আবেগ, দুঃখ-বেদনা-যন্ত্রণার খবর তাদের রাখতে হয়। এভাবে তারা কখনও আবেগে আপ্লুত হন, কখনওবা কষ্ট অনুভব করেন। তবে দায়িত্ব-কর্তব্য যখন বড় হয়ে ওঠে, অনেক কিছু চেপে রাখতে হয়। কিন্তু যখন এমন কিছু ঘটে নিজের জীবনে? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগমের প্রথম সন্তান প্রসবের কথা এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে। গর্ভে সন্তান নিয়েই তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত চেকআপের জন্য চিকিৎসকের চেম্বারে থাকাকালে আকস্মিকভাবে জানতে পারেন যে, তাকে ওএসডি করা হয়েছে। বিষয়টি তাকে কষ্ট দেয়, হতবিহ্বল করে ফেলে- যা তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশও করেছেন।

এ কাজ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কি-না, সেটা এ ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন নয়। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নয়, বরং একজন সংবেদনশীল নারী হিসেবে, হবু মাতা হিসেবে তার মনে প্রশ্ন জেগেছে- 'মা হওয়াই অপরাধ' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে কি-না। তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ, এমন কিছু প্রশাসনকে জানাননি। মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্যও আবেদন করেননি। সাধারণত প্রশাসনের কাউকে ওএসডি করা হলে অনেকের কাছেই সেটা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়। মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ায় মানবিক কারণে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শসাপেক্ষে অন্য দায়িত্বে দেওয়া যেতেই পারে। এমনকি প্রয়োজনে আগাম ছুটিও মঞ্জুর করা যায়। কিন্তু এমন কোনো পদক্ষেপ বাঞ্ছিত নয়, যা মাতৃহৃদয় যন্ত্রণাদগ্ধ করে। দুর্ভাগ্যজনক যে, এ ক্ষেত্রে তেমনটিই ঘটেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে থাকা ব্যক্তিও যদি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে মানবিক আচরণ-সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে? কেউ বলতেই পারে- এ তো মানবিকতার নির্বাসন! আমাদের প্রত্যাশা, হোসনে আরা বেগমের বিষয়টি দ্রুত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচিত হবে।