মাদকের মামলা

শুরু আছে, শেষ নেই কেন

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

শনিবার সমকালের একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল এভাবে- 'বিচারাধীন সাড়ে তিন লাখ :মাদকের মামলা শেষ হয় না'। অথচ সরকার দৃঢ়সংকল্প- মাদক নির্মূল করতেই হবে। একটি সূত্র বলছে, দেশে এক বছরেই ইয়াবার বাণিজ্য হয় ৬ হাজার কোটি টাকা। বছরে ভয়ঙ্কর নেশার এই ট্যাবলেট বিক্রি হয় ৪০ কোটির মতো, যার মাত্র ১০ শতাংশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করতে পারে। বাকিটা অনেকের চোখের সামনেই ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। এমনকি, বাংলাদেশকে মাদকদ্রব্যের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও খোলামেলা আলোচনা হতে আমরা দেখি। কেবল ইয়াবা নয়, পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী আরও অনেক ধরনের মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হয়। ২০১৫ সালে আইসিডিডিআরবি'র এক সমীক্ষায় বলা হয়, বছরে ৬৬ লাখ মাদকাসক্তকে ঘিরে বহুমুখী লেনদেনের পরিমাণ অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা। লেনদেনের অঙ্ক নিয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি যে কত উদ্বেগের, সেটা মামলার বিরাট সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট। মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে পারা অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কৃতিত্ব। কিন্তু যে সীমিত মাত্রায় এ বিষ উদ্ধার হয় এবং এ জন্য যে মামলা হয়, তার নিষ্পত্তি কেন হয় না? এর দায় কে নেবে? প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও সংশ্নিষ্ট আরও অনেকের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ- এক. মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তদের নামে যেসব মামলা রয়েছে তার দ্রুত নিষ্পত্তি। দুই. মাদকের উৎস নির্মূল করা। শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাদক ব্যবসা নির্র্মূল করা। বিশেষভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের কথা শোনা যাচ্ছে। বহু বছর যারা নানা কৌশলে আইনের আওতার বাইরে ছিল, তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে- এমন একটি পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। আমাদের একটিই প্রত্যাশা- এক দল আত্মসমর্পণ করবে এবং অচিরেই তাদের স্থান আরেক দল গ্রহণ করবে- এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন কোনোভাবেই না ঘটে। কেন বমাল ধরা পড়ার পরও বিচার কাজে বিলম্ব ঘটছে, তার অনুসন্ধান এখন আর জরুরি নয়। এটা ওপেন সিক্রেট। বছরের পর বছর ধরে শুনছি- মামলার তারিখ হয়, কিন্তু সাক্ষী মেলে না। প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখার জন্য সব কিছু বশ করার কৌশল জানে এবং সাক্ষী থেকে শুরু করে সংশ্নিষ্ট আরও অনেকের মুখ বন্ধে সক্রিয় থাকে। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি এ বিষয়টিরও সুরাহা এখন জরুরি। মামলা হলে তার সুরাহাও হতে হবে- এটা এখন সময়ের দাবি।