জাটকা পরিপূর্ণ ইলিশে পরিণত হওয়া নিশ্চিত করতে মৎস্য অধিদপ্তর কয়েক বছর ধরে জাটকা নিধন বন্ধে মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাই জাটকা রক্ষা করে পরিপূর্ণ ইলিশে পরিণত করার ক্ষেত্রে এটি ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা বলবৎকালীন জেলেদের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে যে প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়. তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জেলেরা যথাসময়ে প্রণোদনা ও তাদের প্রাপ্য সবটুকু চাল পান না। তারা সরকার ঘোষিত খাদ্য সহায়তা কেন যথাসময়ে পাবেন না- এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায় দায়িত্বশীলরা এড়াতে পারেন না। প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত (১০ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) মাছ ধরায় নিষেধজ্ঞা থাকায় জেলেরা জীবিকা সংকটে পড়েন বিধায় খাদ্য সহায়তার এই পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার চার মাস শেষ হয়ে গেলেও জেলেরা প্রণোদনার চাল এখনও পাননি! প্রতি মাসে তালিকাভুক্ত একজন জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে নির্ধারিত ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত ৪৩২ কিলোমিটারে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। জেলেরা প্রণোদনা সময়মতো না পাওয়ায় চোরাপথে জীবিকার তাগিদে তারা মাছ শিকারের সন্ধানে থাকেন। জেলেদের ক্ষুধার্ত রেখে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কতটুকু কার্যকর হতে পারে- এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলে দাদন নিয়ে সংসার নির্বাহ করেন। এর বিরূপ প্রভাব যে তাদের জীবন-জীবিকায় পড়ছে, তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। সহায়তা পাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত জেলেদের জীবিকা নির্বাহে প্রণোদনার চাল সময়মতো প্রদানে কোনোরকম গড়িমসি মেনে নেওয়া যায় না। এ সময়ে জেলেদের আর কী উপায়ে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা যায়, এ বিষয়টিও ভাবতে হবে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে জেলেরা আস্থা হারাবেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতাও বাড়বে। তাদের প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্তব্য করুন