ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ

জনসচেতনতার বিকল্প নেই

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

আমাদের দেশে ভোক্তার স্বার্থ উপেক্ষিত- এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণীত হয় এবং একই বছরের ২৪ জুন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কার্যক্রম শুরু হয় পরের বছর ৬ এপ্রিল থেকে। ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা আইন প্রণীত হলেও ভোক্তার অধিকার এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাস্তবতায় ১৫ মার্চ দেশে পালিত হয়েছে ভোক্তা অধিকার দিবস। ওইদিন সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ২৮ সেবা। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে নানা বিষয়ে আইনের সংশোধন প্রস্তাব করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও বলতে চাই, আইন প্রণয়ন কিংবা জনস্বার্থে সংশোধনই বড় কথা নয়। মূল হলো, আইনের কার্যকারিতা কিংবা বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে সুফল মিলবে না।

আইন অনুযায়ী কোনো পণ্যের মোড়কের গায়ে সংশ্নিষ্ট পণ্যের খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা না থাকা, পণ্য ও সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্য দাবি করা, ভেজাল পণ্য বিক্রি, ওজন পরিমাপক যন্ত্র এবং দৈর্ঘ্য পরিমাপক ফিতায় কারচুপি করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করা ইত্যাদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে এ রকম একটি আইনের ব্যাপারে অনেকেই সচেতন নন। অনেকেই জানেন না যে, পণ্য কিনে ঠকলে বা কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হলে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার তার আছে। কনজ্যুমারস ফোরামের একটি জরিপে দেখা গেছে, এখনও ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ জানে না ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণমূলক একটি আইন আছে এবং এর জন্য একটি অধিদপ্তর রয়েছে। আমরা মনে করি, ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতন করতে এ আইন সম্পর্কে প্রচার চালানো প্রয়োজন। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। তবে তা শুধু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক প্রচেষ্টা দিয়ে সম্ভব হবে না। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও উদ্যোগী হতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগেও মনোযোগ বাড়াতে হবে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের।