নিউজিল্যান্ডে হত্যাযজ্ঞ

আমাদের শোক ও শঙ্কা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শুক্রবারকে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন তার দেশের জন্য 'অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি' আখ্যা দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এই বিশেষণ গোটা বিশ্বের জন্যই প্রযোজ্য। একাধিক উগ্রপন্থি বন্দুকধারী যেভাবে কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানের দুটি মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করেছে, সেই নৃশংসতার তুলনা করা সত্যিই কঠিন। এর মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণ হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের কোনো বিশেষ ধর্ম-পরিচয় থাকতে পারে না। প্রত্যেক ধর্মই শান্তির সুমহান বার্তা দিলেও সব ধর্মেই এ ধরনের অবিমৃশ্যকারী 'আদর্শ' লালন করে থাকে কিছু মানুষ নামের অমানুষ। ক্রাইস্টচার্চে হতাহতদের জন্য আমরা শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি কয়েকটি শঙ্কাও জানিয়ে রাখতে চাই। আমরা দেখছি, হত্যাকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ আরও তিনজন।

আমরা আশা করি, নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সবাই নিরাপদে থাকবেন। আমরা জানি, একটি সমাজে উগ্রপন্থি বা সন্ত্রাসীরা সংখ্যায় সামান্য থাকে। বিপুল অধিকাংশ মানুষই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। বিশেষত নিউজিল্যান্ড একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। সেখানে এই হামলার ঘটনার পর সর্বোচ্চ সতর্কতার বিকল্প নেই। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন এ ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা জারি করতে পারে। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় আমাদের সামনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা শঙ্কাও নিয়ে এসেছে। হামলার শিকার আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিল বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেট দল। মাত্র কয়েক মিনিট আগে পৌঁছলে তাদেরও হয়তো পড়তে হতো হামলার মধ্যে। হামলা থেকে কোনোরকমে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিকে সৌভাগ্য বিবেচনা করে যে সতর্কতা আমরা উচ্চারণ করতে চাই তা হচ্ছে, সবসময় ভাগ্য সহায় না-ও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছি, নিউজিল্যান্ড সফরকারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ কিছু সদস্য মসজিদটিতে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। আমাদের মনে আছে, ২০০৯ সালে শ্রীলংকার ক্রিকেট দল পাকিস্তানের লাহোরে কীভাবে সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েছিল। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান কিংবা কেবল ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের কারণেও আমাদের ক্রিকেট দল হামলার টার্গেটে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। ক্রাইস্টচার্চের অঘটনের মতো অন্য কোনো অঘটনের মধ্যে গিয়ে পড়ার ঝুঁকি তো সবসময়ই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখতে চাইব, দেশের ভেতরে বা বাইরে ক্রিকেট দলের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রাইস্টচার্চের ভীতিকর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি অন্য কোথাও যেন না হয়।